একসময় তার হাতের দেয়ালে ভেঙে গিয়েছিল ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন। কাতার বিশ্বকাপে নেইমারদের সেই দুঃস্বপ্নের নায়ক দমিনিক লিভাকোভিচ এবার যোগ দিলেন বার্সেলোনায়। ক্রোয়েশিয়ার অভিজ্ঞ গোলরক্ষককে ফেনারবাচে থেকে চার বছরের চুক্তিতে দলে নিয়েছে স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা।
বৃহস্পতিবার লিভাকোভিচকে দলে নেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে বার্সেলোনা। এক বিবৃতিতে কাতালান ক্লাবটি বলেছে, ‘দমিনিক লিভাকোভিচ এখন বার্সেলোনার খেলোয়াড়।’ ৩১ বছর বয়সী এই গোলরক্ষকের সঙ্গে ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত চুক্তি করেছে তারা। তবে দলবদলের অর্থের পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
লিভাকোভিচ নামটি ব্রাজিল সমর্থকদের কাছে যন্ত্রণার আরেক নাম। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে ক্রোয়েশিয়াকে ম্যাচে রেখেছিলেন তিনি। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে করেছিলেন ১১টি সেভ।
Ready to guard our goal 🧱 pic.twitter.com/dKNHEHUMK2 — FC Barcelona (@FCBarcelona) August 27, 2026
Ready to guard our goal 🧱 pic.twitter.com/dKNHEHUMK2
অতিরিক্ত সময়ে নেইমারের গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত সমতা ধরে রাখতে পারেনি ব্রাজিল। ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে রদ্রিগোর প্রথম শটই ঠেকিয়ে দেন লিভাকোভিচ। পরে মার্কিনিওসের শট পোস্টে লাগলে ৪-২ ব্যবধানে টাইব্রেকার জিতে সেমিফাইনালে উঠে যায় ক্রোয়েশিয়া। চোখের জলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয় নেইমারদের।
শুধু ব্রাজিল ম্যাচ নয়, জাপানের বিপক্ষে শেষ ষোলোর টাইব্রেকারেও তিনটি পেনাল্টি ঠেকিয়েছিলেন লিভাকোভিচ। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে সেবার বিশ্বকাপে তৃতীয় হয়েছিল ক্রোয়েশিয়া।
ক্লাব ফুটবলেও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে লিভাকোভিচের। ২০১৬ সালে দিনামো জাগরেবে যোগ দেওয়ার পর সাত মৌসুমে ২৯৫ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। এর মধ্যে ১৩৭ ম্যাচে গোল হজম করেননি এবং জিতেছেন সাতটি লিগ শিরোপা।
২০২৩ সালে ফেনারবাচেতে যোগ দিয়ে দুই মৌসুমে ৭৪ ম্যাচে ২৪টি ক্লিনশিট রাখেন ক্রোয়াট গোলরক্ষক। গত মৌসুমের শুরুতে ধারে জিরোনায় গেলেও কোনো ম্যাচে মাঠে নামা হয়নি তার। পরে জানুয়ারিতে পুরোনো ক্লাব দিনামো জাগরেবে ফিরে ১৫ ম্যাচে আটটি ক্লিনশিট রেখে দলকে লিগ শিরোপা জেতাতে ভূমিকা রাখেন।
বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা, পেনাল্টি ঠেকানোর দক্ষতা এবং চাপের মধ্যে শান্ত থাকার সামর্থ্যের কারণে বার্সেলোনার গোলবারে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারেন লিভাকোভিচ। ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে দেওয়া সেই গোলরক্ষকের সামনে এবার কাতালানদের শিরোপা স্বপ্ন রক্ষার চ্যালেঞ্জ।