মোংলা কাস্টম হাউস দিয়ে যন্ত্রাংশের ঘোষণা দিয়ে চারটি বিলাসবহুল গাড়ি আমদানি করে শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা করা হয়েছে। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের এক অভিযানে বিএমডব্লিউ, লেক্সাস, রেঞ্জ রোভার ও টয়োটার এই গাড়িগুলো জব্দ করা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
তদন্তে জানা গেছে, আমদানিকারক চালানে হেডলাইট, ব্যবহৃত দরজা, সাসপেনশন শক অ্যাবজরভার, টেইল লাইট, এয়ার ক্লিনার বক্স, রাবার চ্যানেল এবং স্টিয়ারিং হুইলের মতো সাধারণ যন্ত্রাংশ আনার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে বাস্তবে আস্ত গাড়িগুলোকে তিন-চারটি বড় অংশে বিভক্ত করে (সিকেডি) আনা হয়। এই চালানের শুল্কায়নযোগ্য মূল্য দেখানো হয়েছিল মাত্র ৯ লাখ ৯৩ হাজার ৫৪৭ টাকা।
এনবিআরের একজন কর্মকর্তা বলেন, "এসব গাড়ির শুল্কায়নযোগ্য দাম কত, তা নির্ধারণ করে শুল্ক আরোপ করা হবে। এরপর আমদানিকারকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
জব্দ করা গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০১৭ মডেলের যুক্তরাজ্যের তৈরি রেঞ্জ রোভার ভোগ (মূল্য ১ কোটি ৬০ লাখ থেকে ১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা), ২০১৬ মডেলের জাপানি লেক্সাস এলএক্স৫৭০ (মূল্য ২ কোটি থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকা), ২০১০ মডেলের জার্মান বিএমডব্লিউ ৬৫আই (মূল্য ৬০ লাখ থেকে ৯০ লাখ টাকা) এবং জাপানি টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট (মূল্য ৩০-৪০ লাখ টাকা)। এসব গাড়ির মোট বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৪ কোটি থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ক্রাউন অটোমোবাইল সার্ভিসেস এই গাড়িগুলো আমদানি করে। গত জুলাই মাসে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয় চালানটি স্থগিত করে। পরবর্তীতে ১৯ জুলাই শতভাগ কায়িক পরীক্ষা, বিআরটিএ ও কুয়েটের বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে গাড়িগুলোর প্রকৃত পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
এনবিআর জানিয়েছে, চূড়ান্ত রাজস্ব ফাঁকির পরিমাণ যথাযথ শুল্কায়ন শেষে নির্ধারিত হবে। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয় তদন্ত শেষে মোংলা কাস্টম হাউসকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে। সাধারণত সিসিভেদে গাড়ির ওপর ৩০ থেকে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত সম্পূরক শুল্ক বসতে পারে, যা ফাঁকি দিতেই আমদানিকারকরা এই কৌশল অবলম্বন করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।