চট্টগ্রাম ও খুলনার মতো মেট্রোপলিটন এলাকায় গ্যাংস্টারদের গোলাগুলি যখন সাধারণ খবর হয়ে দাঁড়িয়েছে, তখন উপজেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলার অবক্ষয় নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ পাচ্ছে। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গত ২২ দিনে ছয়টি গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের তালিকায় শিক্ষক, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা এবং সাধারণ নাগরিক সবাই রয়েছেন। এতদিন ধরে চলমান এই সহিংসতা স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকারিতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুতর প্রশ্ন তোলে।

উপজেলায় অস্ত্রধারীদের ভয়ডরহীন দৌরাত্ম্য প্রমাণ করে যে আইনশৃঙ্খলার সূচক আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো, একের পর এক সশস্ত্র হামলার পরও পুলিশ এখন পর্যন্ত একজন অস্ত্রধারীকেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি এবং উদ্ধার হয়নি কোনো অবৈধ অস্ত্র। পেশাদার সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে মুখোশ পরিহিত অবস্থায় হামলা চালিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করছে। এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে তারা সাধারণ মানুষের মধ্যে ত্রাসের সৃষ্টি করছে। ফলে কেবল জীবন-মালের নিরাপত্তাই ঝুঁকিতে নেই, স্থানীয় অর্থনীতি ও স্বাভাবিক দৈনন্দিন জীবনযাপনও প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসব সশস্ত্র সন্ত্রাসী রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় তাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। সরকার বা দল পরিবর্তনের পরেও অস্ত্রধারীদের দৌরাত্ম্য থামছে না; বরং সুবিধাজনক রাজনৈতিক পরিচয় কাজে লাগিয়ে তারা আইনের জালে আটকা থেকে যাচ্ছে। মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো যদি অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়া বন্ধ না করে এবং রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তবে এই সন্ত্রাসী প্রবণতা প্রতিহত করা সম্ভব হবে না।

জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। বেগমগঞ্জের চিহ্নিত অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে সকল অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয়ের কোনো তোয়াক্কা না করে ঘটনায় জড়িত চিহ্নিত অস্ত্রধারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও ব্যর্থতার পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধান করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হোক।

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও নাগরিক জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। পুলিশ প্রশাসন যদি শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে এবং দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেয়, তবে বেগমগঞ্জসহ নোয়াখালীর অন্যান্য উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়বে। তাই নাগরিক নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারে প্রশাসনকে এখনই জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে.