দেশে সারের সংকট নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, "ইউরিয়া সারের ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ে কোনো তারতম্য নেই। নন–ইউরিয়া সার, এই সিজনের পরের সিজনে যেটা লাগবে, রবি শস্যের জন্য, আলু–সরিষা–ভুট্টার জন্য, কিছু কৃষকের অগ্রিম মজুত করার জন্য, অগ্রিম কিনে রাখার জন্য একটু সমস্যা তৈরি হয়েছে।"

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বুধবার দুপুরে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের মধ্যে হুইলচেয়ার, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য কৃতী ছাত্রীদের মধ্যে সাইকেল, ফলজ, ঔষধি ও বনজ গাছের চারা বিতরণ এবং এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

মীর শাহে আলম বলেন, "দেশের গুদামগুলোয় পর্যাপ্ত সার মজুত আছে। সারের কোনো সংকট নেই।" তিনি জানান, গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে কৃত্রিমভাবে সারের সংকট তৈরি করে কৃষকদের দুর্ভোগে ফেললে সংশ্লিষ্ট ডিলার ও সার ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, "সার বিতরণ নিয়ে ডিলারদের মধ্যে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে একটি পরিপত্র জারি হয়েছে। এতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, বর্তমানে দায়িত্বে থাকা ডিলাররাই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সার উত্তোলন ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত থাকবেন।"

প্রতিমন্ত্রী জানান, "কিছু কৃষক অগ্রিম সার কিনতে যাওয়ায় এবং দু-একজন ডিলার সময়মতো সার উত্তোলন ও বিতরণ না করায় সাময়িক সমস্যা তৈরি হয়েছিল।" তিনি কৃষকদের আশ্বস্ত করে বলেন, "বর্তমানে দায়িত্বে থাকা ডিলারদের মাধ্যমেই কৃষকেরা সার পাবেন।"

অনুষ্ঠানে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, বগুড়া সরকারি মুজিবুর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বিল্লাল হোসেন, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম তাজুল ইসলাম, মোকামতলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহমুদ হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের গাছের চারা ছাড়াও ব্যাগ, মগ, সনদ ও ফুল উপহার দেওয়া হয়। এছাড়া কিশোরীদের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতার জন্য ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের হাতে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিতরণ করা হয়।