দেশে হামের উপসর্গে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-সংক্রান্ত নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গতকাল মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে আজ সকাল আটটা পর্যন্ত এই মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটেছে। এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মোট ৮৫১ জন এবং নিশ্চিত হামে ৯৯ জনসহ মোট ৯৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে যে, হামে মারা যাওয়া ৫১% শিশুর টিকার বয়স হয়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত পরিসংখ্যানে বয়সভিত্তিক বিস্তারিত তথ্য না থাকলেও রোগতত্ত্ববিদেরা জানান, হাম সব বয়সী মানুষের হতে পারে, তবে শিশুরাই এতে বেশি আক্রান্ত হয়। প্রাদুর্ভাবের সময় হামের উপসর্গ নিয়ে যত মৃত্যু হচ্ছে, তার সবই হামে মৃত্যু বলে বিবেচনা করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আজকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ১ হাজার ৯৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর মোট সংখ্যা ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৩৬। এছাড়া সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭৩ জন। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ১৮ হাজার ৬৫১ রোগীর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

তথ্যমতে, হামে মৃত্যুর ৫২ শতাংশ ৯ মাসের কম বয়সী এবং আক্রান্ত শিশুদের ৬৫% অপুষ্টির শিকার। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৩ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৬৫ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন বলছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কেউ মারা যায়নি। তবে হামের উপসর্গে মারা যাওয়া সাতজনের মধ্যে চারজন ঢাকা বিভাগের, দুজন বরিশাল বিভাগের এবং একজন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা।