যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের উডলি পার্কে গত রোববার (২৩ আগস্ট) জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়ার উদ্যোগে এক বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গ্রীষ্মের রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে আয়োজিত এই মিলনমেলায় প্রায় ৮০০ প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন। বেলা ১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা এই আয়োজনে সিলেটের লোকগানের সুর, হাসি, আড্ডা আর নানা ধরনের খেলাধুলায় মুখরিত ছিল পুরো পার্ক।
বনভোজনে আগত প্রবাসীরা পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে পার্কের সবুজ মাঠে গোল হয়ে বসে খাবার উপভোগ করেন। দীর্ঘদিনের ব্যস্ত প্রবাসজীবনের বাইরে এসে পরিচিতজনদের কাছে পেয়ে অনেকেই ফিরে গিয়েছিলেন ফেলে আসা অতীতে। কুশল বিনিময়, স্মৃতিচারণা এবং নতুন পরিচিতদের সঙ্গে আলাপচারিতায় মেতে ওঠেন সবাই।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা। শিশুদের জন্য ছিল চকলেট দৌড় ও সাধারণ দৌড়। বড়দের জন্য মোরগ লড়াই, বস্তা দৌড়, রশি টানাটানি এবং নারীদের জন্য পিলো পাসিং খেলার আয়োজন করা হয়। পিলো পাসিং খেলায় গান বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বালিশ কার হাতে থাকে, তা নিয়ে অংশগ্রহণকারী ও দর্শকদের মধ্যে ছিল দারুণ উত্তেজনা ও উল্লাস। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
খেলার মাঠের বাইরেও ছিল গান ও আড্ডার আসর। অনেকে পুরোনো বন্ধুদের সঙ্গে প্রবাসজীবনের গল্প ভাগাভাগি করেন এবং বাংলাদেশ ও সিলেটের স্মৃতিচারণা করেন। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলে অনেকেই সুন্দর মুহূর্তগুলো ফ্রেমবন্দী করেন। দিনের আয়োজনে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে র্যাফেল ড্র পর্ব, যেখানে পুরস্কার পাওয়ার আশায় সবার মধ্যে কৌতূহল দেখা যায়।
এই আয়োজনে শিশু-কিশোরদের সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের জন্য এটি ছিল নিজেদের সামাজিক-সাংস্কৃতিক আবহের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার এবং নতুন বন্ধুত্ব তৈরির এক দারুণ সুযোগ। তাদের কলকাকলি ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে বনভোজনের পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়ার সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল মুনিম ও সাধারণ সম্পাদক লায়েক আহমেদের নেতৃত্বে এই বনভোজন আয়োজিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। সংগঠনের নেতা ও অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দ নাসির জেবুল, মইনুল হক, মুশফিকুর চৌধুরী, বদরুল আলম মাসুদ, আবদুল বাসেত, লোকমান হোসেন, মাহতাব আহমেদ, ইলিয়াস সিকদার, খান মুহাম্মদ আলী, শিপার চৌধুরী, বদরুল এ চৌধুরী, এম ওয়াহিদ রহমান, মোর্শেদ আলম, আবুল হাসনাত রায়হান, নজরুল আলম প্রমুখ। এছাড়া সাংবাদিক কাজী মশহুরুল হুদা, লস্কর আল মামুনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
আনুষ্ঠানিকভাবে বনভোজন সন্ধ্যা ৬টায় শেষ হলেও প্রবাসীদের আড্ডা চলে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। পরের কোনো অনুষ্ঠানে আবার দেখা হওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে সবাই বিদায় নেন। এই আয়োজন কেবল একটি বনভোজন ছিল না, বরং পরিচিত মুখগুলোকে কাছে পাওয়া, নতুন সম্পর্ক তৈরি করা এবং পরিজন নিয়ে আনন্দে সময় কাটানোর এক অনবদ্য উপলক্ষ হয়ে ওঠে।