ক্রিকেট মাঠে উত্তেজনা নতুন কিছু নয়, তবে তা যখন শারীরিক সংঘাতে রূপ নেয়, তখন খেলোয়াড়দের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। ভারতের দুই তরুণ ক্রিকেটার বৈভব সূর্যবংশী ও যশস্বী জয়সোয়ালের সাম্প্রতিক দুটি ঘটনা এই আলোচনাকে সামনে এনেছে। ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার সঞ্জয় মাঞ্জরেকার মনে করেন, এই দুটি ঘটনাতেই সূর্যবংশী ও জয়সোয়াল ছাড় পেয়েছেন। তিনি আজ এক্স-এ লিখেছেন, “প্রিয় আইসিসি ও বিসিসিআই, ভারত এ দলের হয়ে বৈভব আর এখন জয়সোয়াল। এ ধরনের আচরণে যদি বারবার তাদের ছাড় দেওয়া হয়, তাহলে এমন আচরণের পুনরাবৃত্তি করতেই তাদের শেখানো হয়। এটি খেলার জন্য ভালো নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, তাদের নিজেদের ভবিষ্যতের জন্যও এটি ভালো নয়।”

জয়সোয়ালের ঘটনাটি ঘটে কলম্বো টেস্টের প্রথম দিনে। সেদিন শ্রীলঙ্কার পেসার আশিতা ফার্নান্দো তাঁকে আউট করে উদযাপন করছিলেন এবং ভারতীয় ওপেনার ড্রেসিংরুমের দিকে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ করেই জয়সোয়াল দিক পরিবর্তন করে আশিতার দিকে এগিয়ে যান। আশিতা ও জয়সোয়ালের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে আশিতা তাঁর মাথা জয়সোয়ালের দিকে ঝোঁকান এবং জয়সোয়ালও মাথা ঝোঁকালে দুজনের মাথায় ঠোকাঠুকি হয়। আইসিসির বিবৃতিতে এই ঘটনাকে ‘সংঘর্ষ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আশিতাকে কেন্দ্র করে শ্রীলঙ্কা দলের উদযাপনের মধ্য থেকে আসা কোনো মন্তব্য জয়সোয়ালের ভালো লাগেনি, যে কারণে তিনি এমন প্রতিক্রিয়া দেখান।

অন্যদিকে, সূর্যবংশী এমন কাণ্ডে জড়িয়েছেন চলতি বছরের জুনে, সেটিও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই। শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের এক ক্রিকেটারের গায়ে হাত তোলেন ১৫ বছর বয়সী এই ওপেনার। সে ম্যাচে ভারতের হয়ে সুপার ওভারে ব্যাট করেন সূর্যবংশী ও সূর্যংশ শেড়গে। ৭ রানে সুপার ওভারে হেরে তাঁরা যখন মাঠ ছাড়ছিলেন, তখনই ঘটনার সূত্রপাত। শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিশেন হালাম্বাগে ও ওয়ানুজা সাহানকে সূর্যবংশী ও সূর্যংশের উদ্দেশে কিছু বলতে দেখা যায়। ভারতীয় ক্রিকেট পোর্টাল ক্রিকবাজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হালাম্বাগে সূর্যবংশীর উদ্দেশে নাকি বলেছিলেন, “ম্যাচ শেষ...এবার বাড়ি যাও।” এই কথা হজম করতে পারেননি সূর্যবংশী এবং মুখ ঘুরিয়ে পেছনে এসে হালাম্বাগেকে ধাক্কা মেরে বসেন। জয়সোয়ালের কাণ্ডে তাঁকে ম্যাচ ফির ২৫ শতাংশ জরিমানা করা হলেও সূর্যবংশীর কোনো শাস্তি হয়নি।