শিক্ষা মন্ত্রণালয় জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজনের জন্য নতুন নীতিমালা জারি করেছে, যেখানে একগুচ্ছ শর্ত ও নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য এই পরীক্ষায় প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে মেধাক্রম অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে মনোনীত করা যাবে। একই সাথে, পাঁচটি বিষয়ে ৪০০ নম্বরের পরীক্ষা গ্রহণ এবং পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে ১৪৪ ধারা জারির মতো কঠোর পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ একটি পরিপত্র প্রকাশ করেছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে ‘জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা’ শীর্ষক এই পরিপত্রটি জারি করা হয়। বিভাগের সরকারি মাধ্যমিক-২ শাখা থেকে প্রকাশিত এই নীতিমালার আলোকেই জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, অনুমোদিত বা স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে সপ্তম শ্রেণির বার্ষিক বা সামগ্রিক মূল্যায়নের ফলের ভিত্তিতে সর্বনিম্ন ২০ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার জন্য মনোনীত করা যাবে। তবে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি প্রয়োজন অনুযায়ী সময়ে সময়ে এই সংখ্যা পুনর্বিন্যাস করতে পারবে। কোনো শিক্ষার্থী ছাড়পত্র (টিসি) নিয়ে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও পূর্ববর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেধাক্রম বিবেচনায় নিয়ে তাকে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা মোট পাঁচটি বিষয়ে অনুষ্ঠিত হবে, যার সর্বমোট পূর্ণমান ৪০০। এর মধ্যে বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে ১০০ করে এবং বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে ৫০ করে নম্বর থাকবে। বাংলা (কোড ১০১), ইংরেজি (কোড ১০৭) এবং গণিত (কোড ১০৯) প্রতিটি বিষয়ের জন্য পরীক্ষার সময় তিন ঘণ্টা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিজ্ঞান (কোড ১২৭) এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (কোড ১৫০) বিষয়ের পরীক্ষা সমন্বিতভাবে অনুষ্ঠিত হবে। এই দুই বিষয় মিলিয়ে মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত সময় তিন ঘণ্টা, যেখানে প্রতিটি বিষয়ের জন্য দেড় ঘণ্টা করে সময় বরাদ্দ থাকবে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) প্রণীত অষ্টম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকের ভিত্তিতে প্রশ্নপত্র তৈরি করা হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় এবং শ্রুতিলেখক হিসেবে সর্বোচ্চ সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী রাখার সুযোগ থাকবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, জুনিয়র বৃত্তি মূলত দুই ধরনের হবে—ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তি। উপজেলা ও থানাভিত্তিক এই বৃত্তির কোটা নির্ধারণ করা হবে। সব ধরনের বৃত্তির ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ ছাত্র এবং ৫০ শতাংশ ছাত্রীর জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তবে কোনো নির্দিষ্ট কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে, অবশিষ্ট বৃত্তি অপর পক্ষের যোগ্য প্রার্থীদের মধ্য থেকে পূরণ করা হবে। যদি একাধিক শিক্ষার্থীর প্রাপ্ত নম্বর সমান হয়, তবে মেধাক্রম নির্ধারণে পর্যায়ক্রমে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে বেশি নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। সব বিষয়েই নম্বর সমান হলে, সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষার্থীকেই সমানভাবে বৃত্তির জন্য মনোনীত করা হবে।

পরীক্ষায় অংশ নিতে প্রতিটি পরীক্ষার্থীকে বোর্ড ফি বাবদ ৪০০ টাকা এবং কেন্দ্র ফি বাবদ ২০০ টাকা, অর্থাৎ মোট ৬০০ টাকা দিতে হবে। তবে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তীতে এই ফি পরিবর্তন করা যেতে পারে। শিক্ষা বোর্ডগুলো অনলাইনে শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ ও ফি সংগ্রহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। প্রতিটি উপজেলা সদরের সুবিধাজনক স্থানে পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে এবং পরীক্ষার হলে প্রতিটি বেঞ্চে সর্বোচ্চ দুজন পরীক্ষার্থী বসতে পারবে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজন ও পরিচালনার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ে একাধিক কমিটি দায়িত্ব পালন করবে। শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের নেতৃত্বে নির্বাহী কমিটি সার্বিক কার্যক্রম তদারক করবে। মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসকের (ডিসি) নেতৃত্বে জেলা কমিটি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে উপজেলা কমিটি কাজ করবে। পরীক্ষাকালীন কেন্দ্রগুলোতে ১৪৪ ধারা জারি থাকবে। উত্তরপত্রের ওএমআর অংশ মূল্যায়নের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে ফল প্রকাশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে। পরীক্ষার দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়েও নীতিমালায় কঠোর ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। পরীক্ষা-সংক্রান্ত কোনো কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা শিক্ষকের অবহেলা প্রমাণিত হলে, তাকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি নিয়ম অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।