ইরানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সংঘাতের প্রতি মার্কিন জনগণের সমর্থন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও রেকর্ড সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে। রয়টার্স/ইপসোসের সাম্প্রতিক এক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে।

চার দিনব্যাপী পরিচালিত এই জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করেন। মার্চ মাসের রয়টার্স/ইপসোসের জরিপে এই হার ছিল ৩৭ শতাংশ এবং চলতি মাসের শুরুতে ছিল ৩৪ শতাংশ। রিপাবলিকানদের মধ্যে ইরান যুদ্ধের প্রতি সমর্থন কমে যাওয়ায় সামগ্রিক সমর্থন হ্রাস পেয়েছে। মার্চ মাসে ৭৭ শতাংশ রিপাবলিকান এই যুদ্ধকে সমর্থন করলেও, সর্বশেষ জরিপে তা ৬৯ শতাংশে নেমে এসেছে।

চলতি বছর ইরান যুদ্ধ ট্রাম্পের জনসমর্থনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। টানা দ্বিতীয় জরিপে মাত্র ৩৩ শতাংশ উত্তরদাতা হোয়াইট হাউসে এই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের কাজকর্মের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন, যা ট্রাম্পের প্রথম বা দ্বিতীয় মেয়াদের রয়টার্স/ইপসোস জরিপগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।

ট্রাম্প মার্কিন নাগরিকদের বলেছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে বিরত রাখতে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সংঘাত কিছুটা স্তিমিত হলেও ইরান অঞ্চলটি থেকে তেল রপ্তানির ওপর কার্যত অবরোধ বজায় রেখেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম রেকর্ড উচ্চতার কাছাকাছি ঠেলে দিয়েছে।

টানা দ্বিতীয় জরিপে ট্রাম্পের কাজের প্রতি অনুমোদন সর্বনিম্ন ৩৩ শতাংশে স্থির। ৮৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, এ যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চলবে।

ট্রাম্প ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির অঙ্গীকার করেছেন। ট্রাম্পের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট গতকাল দেশটির সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা ঘোষণা করেছেন। তবে প্রকৃতপক্ষে কোনো জরিমানা আরোপ করেননি। এতে বোঝা যাচ্ছে, এই সংঘাত প্রশাসনের জন্য কতটা জটিল হয়ে উঠেছে।

সর্বশেষ রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, দেশের প্রায় ৮৩ শতাংশ মানুষের আশঙ্কা, এই যুদ্ধ ‘দীর্ঘ সময় ধরে’ চলবে। চলতি মাসের শুরুতে এই হার ছিল ৮০ শতাংশ।

ট্রাম্প ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাত এড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছিলেন। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ছয় মাস পর যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম যুদ্ধ শুরুর আগের চেয়ে প্রতি গ্যালনে এক ডলারের বেশি বেড়ে গেছে।

এই পরিস্থিতি ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে তাঁদের স্বল্প ব্যবধানের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখতে যেসব নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামছেন, তাঁরা বেশি উদ্বিগ্ন।

আজ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে কংগ্রেস নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে জরিপে অংশগ্রহণকারী নিরপেক্ষ ভোটাররা রিপাবলিকানদের চেয়ে ডেমোক্র্যাটদের বেশি পছন্দ করেছেন (৩৩ শতাংশ বনাম ১৯ শতাংশ)।

দেশব্যাপী ১ হাজার ২১৫ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর এই জরিপ চালানো হয়েছিল। এতে ভুলের মাত্রা (মার্জিন অব এরর) ছিল ৩ শতাংশের কমবেশি।