কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করায় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আবারও রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসে দিল্লিতে ইন্ডিয়া গেটে সমাবেশের ডাক দিয়েছে দলটি। সেখান থেকে শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে দিল্লি পুলিশের সদর দপ্তরে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। গতকাল সোমবার সিজেপির ন্যাশনাল ওয়ার্কিং কমিটি এই কর্মসূচির কথা জানিয়েছে।

সিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, গত ২৫ জুলাই ‘তেলাপোকাদের’ আন্দোলন প্রত্যাহারের সময় কেন্দ্রীয় সরকার যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিল, তা সম্পূর্ণভাবে মানা হয়নি। সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সিজেপি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে ওই প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিলেন। কিন্তু এক মাস পেরিয়ে গেলেও সরকার সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে তারা পুনরায় আন্দোলনে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সিজেপির তিন শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দিপকে, আশুতোষ রাংকা এবং সৌরভ দাস নিশ্চিত করেছেন যে, তাদের সমাবেশ সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ হবে। এই প্রতিবাদ মিছিলে আত্মঘাতী নিট পরীক্ষার্থীদের পরিবার এবং সংসদ অভিযানের সময় পুলিশি নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা নেতৃত্ব দেবেন।

সিজেপি নেতারা জানিয়েছেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনায় তারা আন্দোলন প্রত্যাহারের জন্য তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করেছিলেন। দাবিগুলো ছিল: শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশের দায়ের করা এফআইআর নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার এবং আত্মঘাতী নিট পরীক্ষার্থীদের প্রতিটি পরিবারকে এক কোটি রুপি আর্থিক সহায়তা প্রদান।

সিজেপি নেতাদের দাবি, সরকার তিনটি দাবিই মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তারা আরও বলেছেন, গত ২৫ জুলাই ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। এই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে সিজেপিও যন্তর মন্তর থেকে তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। তারা সরকারের দুই শীর্ষ মন্ত্রীর ওপর আস্থা রেখেছিলেন এবং ভেবেছিলেন সরকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে। কিন্তু এরপরও সরকার বাকি দুটি দাবি পূরণ করেনি। তাই বাধ্য হয়ে তারা আবারও রাজপথে নামার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

দিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্যে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহার করা হলেও, দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ২ হাজার ৮৭৩ জন শিক্ষার্থীকে চিহ্নিত করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কার্যক্রমের পুরোনো রেকর্ড থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ ‘ফেশিয়াল রেকগনিশন সিস্টেম’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের চিহ্নিত করেছে। দিল্লি পুলিশের দাবি, চিহ্নিত ব্যক্তিদের মধ্যে ৯৮৯ জনের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ ও অপহরণের মতো গুরুতর অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। দিল্লি পুলিশ তাদের মামলা প্রত্যাহারে রাজি নয়।

পুলিশের এই দাবি মানতে নারাজ সিজেপি নেতৃত্ব। অভিজিৎ, আশুতোষ ও সৌরভ বলেছেন, দিল্লি পুলিশ আইন ও প্রযুক্তির দোহাই দিয়ে সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি মানতে চাইছে না। তারা সময় নষ্টের খেলা খেলছে এবং সুপ্রিম কোর্টকেও বিভ্রান্ত করছে। সর্বোচ্চ আদালতের কাছে তারা প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিচ্ছে না।

সিজেপি নেতারা আরও জানান, গত ১৮ আগস্ট সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আন্দোলনকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে মোট কত এফআইআর দায়ের হয়েছে, তার তালিকা জানতে চেয়েছিল। আদালত জানিয়েছিল, তালিকা পেলে সব এফআইআর বাতিলের বিষয়টি একই সঙ্গে বিবেচনা করা যাবে। অথচ সরকার আজও সেই তালিকা জমা দেয়নি।

এক বিবৃতিতে সিজেপি নেতারা বলেছেন, এক মাস অতিক্রান্ত হলেও সরকার প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি। সব এফআইআর যেমন প্রত্যাহার করা হয়নি, তেমনই আত্মঘাতী পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়নি। বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেছেন, ‘আমরা এক মাস ধৈর্য ধরেছি। সরকার যেন এটা আমাদের দুর্বলতা মনে না করে।’ তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার বিশ্বাসঘাতকতা করলে তারা তা মেনে নেবেন না।

৫ সেপ্টেম্বর ইন্ডিয়া গেটের কাছে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে জমায়েত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সিজেপি নেতারা বলেছেন, প্রতিশ্রুতি দিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহার করানো হলেও সরকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং তাদের সঙ্গে প্রতারণা করছে।

সিজেপির এই আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে দিল্লি পুলিশ বা সরকার এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। ইন্ডিয়া গেটে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তাও জানানো হয়নি। অনুমতি না পেলে সিজেপি কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা-ও আপাতত অজানা।