ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে তরুণদের বিক্ষোভ দমাতে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে বলে অভিযোগ তুলেছে লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংগঠনটি জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের ওপর ইলেকট্রিক শকের যন্ত্র ও প্যালেট গান ব্যবহারের ঘটনা তাদের নজরে এসেছে। উল্লেখ্য, গত মাসের ওই বিক্ষোভে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগে বাধ্য হন।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। তবে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে ওঠার পরই পুলিশের পক্ষ থেকে বল প্রয়োগ করা হয়। এদিকে, বিক্ষোভকারী ও পুলিশ—উভয় পক্ষের সংঘটিত সহিংস ঘটনাগুলো তদন্তের জন্য গত বৃহস্পতিবার একটি প্যানেল গঠন করেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় রাজধানী নয়াদিল্লিতে এই বিক্ষোভ শুরু হয়। শুরুতে শান্তিপূর্ণ থাকলেও গত ২০ জুলাই বিক্ষোভটি সহিংস রূপ নেয়। সেদিন হাজারো বিক্ষোভকারী ভারতের পার্লামেন্টের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয় এবং সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য এবং যাচাই করা চাক্ষুষ প্রমাণের ভিত্তিতে জানিয়েছে, দিল্লি ও বিহারে বিক্ষোভকারীদের ওপর প্যালেটচালিত শটগান, কাঁদানে গ্যাস লঞ্চার, সাউন্ড গ্রেনেড, লাঠি ও ইলেকট্রিক শকের যন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া বিহারের সিওয়ান জেলায় এক পুলিশ কর্মকর্তার ‘জনতার বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের’ দুটি ঘটনা যাচাই করেছে সংগঠনটি, যদিও এতে কেউ নিহত হননি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অস্ত্র এমনভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও মানদণ্ড এবং অভ্যন্তরীণ পুলিশি নির্দেশিকা লঙ্ঘন করেছে। অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে পুলিশকে বিচ্ছিন্নভাবে পাথর ছোড়ার কিছু ঘটনা ঘটলেও এর প্রতিক্রিয়া ছিল ‘রাষ্ট্র-অনুমোদিত সহিংসতার’ শামিল।
অন্যদিকে, গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্টের এক শুনানিতে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে ওঠার পরই তারা বল প্রয়োগ করেছিল। পুলিশ আরও জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের ছদ্মবেশে থাকা ‘সমাজবিরোধী দুষ্কৃতকারীরা’ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের গুরুতর আহত করেছে।
গত শুক্রবার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী দিল্লির একটি থানার বাইরে ১৯ বছর বয়সী একজন বিক্ষোভকারীর সঙ্গে অবস্থান ধর্মঘট করেন। ওই বিক্ষোভকারী জানান, গত ২০ জুলাইয়ের বিক্ষোভে তিনি প্যালেটের আঘাতে আহত হয়েছিলেন। রাহুল গান্ধী এই ঘটনার তদন্তের দাবি জানান এবং পরবর্তীতে ওই বিক্ষোভকারীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হয়েছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পাবলিক পরীক্ষায় অনিয়মের জেরে সিজেপির এই বিক্ষোভের সূত্রপাত। সমালোচকদের মতে, এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্রমবর্ধমান স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল। ২০২৪ সালে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর মোদির সামনে এই বিক্ষোভ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়, যা শিক্ষামন্ত্রীকে সরিয়ে দিয়ে সামাল দেওয়া হয়েছে।