অবসরে যাওয়ার দিনে সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এমন সম্মান পাবেন, তা কখনো ভাবেননি শিক্ষক এ কে ফজলুল হক মিয়া। বিদায় অনুষ্ঠানে আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরে সাজানো প্রাইভেট কারে তাঁকে বাড়িতে পৌঁছে দেন সহকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। গাড়িটির সামনে ছিল প্রায় ৪০টি মোটরসাইকেলের বহর।

আজ সোমবার টাঙ্গাইলের সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজে জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ কে ফজলুল হক মিয়াকে বিদায় জানানো হয়। তিনি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও ইংরেজি বিভাগের প্রধান ছিলেন। টানা ৩০ বছর শিক্ষকতা শেষে আজ ছিল তাঁর শেষ কর্মদিবস।

.
বিদায় বেলায় আমাকে এত সম্মান দেখানো হবে, তা আমি কখনো ভাবতেও পারিনি। আমার খুবই ভালো লেগেছে। এমন রাজকীয় বিদায়ের কথা আমি জীবনে কখনো ভুলতে পারব না।
এ কে ফজলুল হক মিয়া, অবসরে যাওয়া শিক্ষক
.

বেলা ১১টায় কলেজে অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা শুরু হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ এম এ রউফ। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবির হাসান, কলেজের উপাধ্যক্ষ এস এম জাকির হুসাইন, বাংলা বিভাগের প্রধান মুহম্মদ আবদুল আলীম, ফারুক হোসেন, মাহমুদুল হক শামীম, খাইরুন নাহার মল্লিক, হামিদুর রহমান, ইংরেজি বিভাগের অনার্সের শিক্ষার্থী সুমি আক্তারসহ অন্যরা।

.

অনুষ্ঠানে কলেজের পক্ষ থেকে বিদায়ী শিক্ষককে উপহার ও ক্রেস্ট দেওয়া হয়। ইংরেজি বিভাগের পক্ষ থেকেও তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও উপহার দেওয়া হয়। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ফজলুল হক মিয়া। তিনি বলেন, ‘বিদায় বেলায় আমাকে এত সম্মান দেখানো হবে, তা আমি কখনো ভাবতেও পারিনি। আমার খুবই ভালো লেগেছে। এমন রাজকীয় বিদায়ের কথা আমি জীবনে কখনো ভুলতে পারব না।’

অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা বিদায়ী শিক্ষককে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। পরে সাজানো একটি প্রাইভেট কারে তাঁকে বাড়ির উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। গাড়িটির সামনে ছিল প্রায় ৪০টি মোটরসাইকেলের বহর। প্রায় তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তাঁকে সখীপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে তাঁর বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। এ সময় তাঁর স্ত্রী সালেহা বেগম, দুই কন্যাও গাড়িতে ছিলেন।

.

কলেজের অধ্যক্ষ এম এ রউফ বলেন, ‘ফজলুল হক স্যার শুধু একজন ভালো শিক্ষকই ছিলেন না, তিনি একজন ভালো মানুষও ছিলেন। শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়।’

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, এ কে ফজলুল হক মিয়া ১৯৯২ সালে উপজেলার হাতিয়া ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি সখীপুর আবাসিক মহিলা কলেজে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। পরে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান এবং শেষ কর্মদিবস পর্যন্ত তিনি প্রতিষ্ঠানটির ইংরেজি বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।