বহুতল ভবনের লিফটে প্রবেশ করার সাথে সাথেই অনেকের মোবাইলের নেটওয়ার্ক বা সিগন্যাল হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যায়। এই সাধারণ ঘটনার পেছনে কাজ করে পদার্থবিজ্ঞানের একটি বিশেষ তত্ত্ব, যা 'ফ্যারাডে কেজ' নামে পরিচিত। সহজ ভাষায়, ফ্যারাডে কেজ হলো ধাতু দিয়ে তৈরি এমন একটি বিশেষ ঘের বা খাঁচা, যার ভেতর দিয়ে বৈদ্যুতিক চার্জ বা তড়িৎ পরিবাহিত হতে পারে না।

স্মার্টফোনের কার্যকারিতা এবং কল আদান-প্রদানের জন্য তড়িৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গের প্রয়োজন হয়, আর এই তরঙ্গের চলাচলের জন্য বৈদ্যুতিক চার্জ অত্যন্ত জরুরি। লিফটগুলো সাধারণত চারপাশ থেকে ধাতু দিয়ে ঘেরা থাকে, যা একটি নিখুঁত ফ্যারাডে কেজ হিসেবে কাজ করে। লিফটের দরজা খোলা থাকলে ফাঁক দিয়ে সিগন্যাল প্রবেশ করতে পারলেও, দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সাথে সাথে ধাতব বেষ্টনীটি বাইরের সব তড়িৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গ আটকে দেয়। ফলে লিফটের ভেতরে কোনো নেটওয়ার্ক বা চার্জ পৌঁছাতে পারে না এবং মোবাইলের সিগন্যাল সম্পূর্ণ হারিয়ে যায়।

ঘরে বসেই এই বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখা সম্ভব। একটি ধাতব বক্সের মধ্যে স্মার্টফোন রেখে কল করলে দেখা যাবে ফোনে রিং বাজছে, কারণ বক্সে কিছু ফাঁকা স্থান থাকে। তবে ফোনটিকে অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল বা টিন ফয়েল দিয়ে খুব ভালো করে সিল বা পেঁচিয়ে দেওয়ার পর কল করা হলে আর কোনো রিং বাজবে না। এর কারণ হলো ফয়েলটি একটি পূর্ণাঙ্গ ফ্যারাডে কেজ তৈরি করে, যা তড়িৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গ ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেয়।

ফ্যারাডে কেজ এমন একটি পরিবাহী ধাতব বেষ্টনী যা বাইরের বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র বা তড়িৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয় না, ফলে ভেতরের অংশ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকে। ১৮৩৬ সালে ব্রিটিশ পদার্থবিদ ও রসায়নবিদ মাইকেল ফ্যারাডে লক্ষ্য করেন, কোনো পরিবাহীর অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক চার্জ কেবল তার বাইরের পৃষ্ঠে অবস্থান করে এবং ভেতরের অংশে কোনো প্রভাব ফেলে না। এই বিষয়টি প্রমাণ করতে তিনি ধাতব ফয়েল দিয়ে একটি বিশেষ কক্ষ বা খাঁচা তৈরি করে বাইরে উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ-সংযোগ দেন। তাঁর সেই পরীক্ষামূলক আবিষ্কার থেকেই আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ফ্যারাডে কেজ ধারণার জন্ম হয়।