চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মসজিদের পাশে সংরক্ষিত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ৫৪ বস্তা নন ইউরিয়া সার রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে গেছে। আজ রোববার কৃষিতে প্রণোদনার জন্য সংরক্ষিত সার বিতরণের সময় এই ঘাটতি ধরা পড়ে। কৃষকদের দাবির মুখে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সার কিনে বিকেলে তা সরবরাহ করা হয়।

এই চুরির ঘটনায় সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান রোববার রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শাহিনুজ্জামানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোমবার আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানা গেছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তালিকাভুক্ত কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য গত জুন মাসে বিএডিসির কাছ থেকে ১ হাজার ৩৫০ বস্তা ডিএপি এবং ১ হাজার ৩৫০ বস্তা এমওপি সার কেনা হয়। নিজস্ব গুদাম না থাকায় এসব সার মসজিদের পাশে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল এবং সেখান থেকেই বিতরণ কার্যক্রম চলছিল।

রোববার সকালে বিতরণ শুরু হলে দেখা যায় ৫৪ বস্তা সার নেই। এতে কৃষকেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে উপজেলা কৃষি অফিস ডিলারদের কাছ থেকে সার কিনে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিতরণ সম্পন্ন করে। সংরক্ষিত এলাকা থেকে সার গায়েবের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা, তবে দায়িত্বরত নৈশ প্রহরীরা এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বলেন, "বিভিন্ন প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় পাওয়া ২ হাজার ৭০০ বস্তা নন ইউরিয়া সার বিএডিসি থেকে সংগ্রহ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে রাখা হয়েছিল। শেষ দিনে এই চুরির ঘটনা ধরা পড়ে। পরে কৃষকদের মাঝে সার বিতরণ করা হয়।"

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "সার সংরক্ষণের জন্য কৃষি বিভাগের নিজস্ব গুদাম না থাকায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে সার রাখা হয়েছিল। সেখান থেকে ৫৪ বস্তা সার কম পাওয়ার ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উপজেলার পক্ষ থেকে আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।"