জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীনের জন্মদিন আজ। সাধারণত এ দিনটিতে ভক্ত-শ্রোতাদের শুভেচ্ছা, ভালোবাসা এবং তাঁর কালজয়ী গানের স্মৃতিচারণায় দিনটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। এবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিল্পীর জন্য শুভেচ্ছায় ভাসছেন ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’–খ্যাত এই শিল্পী। তবে বেবী নাজনীনের কাছে জন্মদিনটি আনন্দের নয়, বরং বিষাদের। কারণ তাঁর ছোট ভাই সাংবাদিক এনাম সরকার ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছেন।
জন্মদিন উপলক্ষে নিজের জন্য কোনো আয়োজন বা বিশেষ চাওয়ার কথা বলছেন না বেবী নাজনী। সবার কাছে তাঁর অনুরোধ—ভাইয়ের সুস্থতার জন্য প্রার্থনা। কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এনাম সরকার। তাঁর অসুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের। ছোট ভাইয়ের শারীরিক অবস্থার প্রভাব পড়েছে বেবী নাজনীনের মানসিক অবস্থাতেও; ফলে জন্মদিন নিয়ে আলাদা করে ভাবার অবকাশ নেই তাঁর।
বেবী নাজনী জানান, সাধারণভাবে নিজের জন্মদিন ঘটা করে উদ্যাপন করেন না। তবে এবারের পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন। ভাইয়ের অসুস্থতার কারণে পরিবারের সবার মন ভারাক্রান্ত, প্রতিটি দিন কাটছে উদ্বেগের মধ্যে। জন্মদিনে ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও পরিচিতজনদের কাছে তাঁর একটাই আবেদন—সবাই যেন এনাম সরকারের সুস্থতার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করেন।
চার দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের পরিচিত মুখ বেবী নাজনী। স্বতন্ত্র কণ্ঠ ও গায়কির জন্য শ্রোতাদের কাছে তিনি ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ নামে পরিচিত। ‘উত্তরবঙ্গের দোয়েল’ নামেও ডাকা হয় তাঁকে। দীর্ঘ সংগীতজীবনে চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, বেতার ও মঞ্চে অসংখ্য গান গেয়েছেন তিনি। দেশের পাশাপাশি বিদেশের মঞ্চেও নিয়মিত পারফর্ম করেছেন।
‘এলোমেলো বাতাসে উড়িয়েছি শাড়ির আঁচল’, ‘কাল সারা রাত ছিল স্বপনেরও রাত’, ‘দুচোখে ঘুম আসে না’, ‘মানুষ নিষ্পাপ পৃথিবীতে আসে’, ‘ওই রংধনু থেকে’, ‘পত্রমিতা’, ‘মরার কোকিলে’, ‘আর কত দিন’, ‘লোকে বলে আমার ঘরে নাকি চাঁদ উঠেছে’, ‘প্রিয়তমা’সহ বহু জনপ্রিয় গান এখনো সমানভাবে শ্রোতাদের কাছে প্রিয়। সংগীতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন তিনি।
সংগীতের পাশাপাশি দীর্ঘদিন রাজনীতিতেও সক্রিয় বেবী নাজনী। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে ছিলেন তিনি। ২০২৪ সালে দেশে ফেরার পর আবার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হন এবং নতুন গান নিয়েও পরিকল্পনা শুরু করেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দেশে ফেরার পর নতুন করে গান ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও এবারের জন্মদিনে সেসব ভাবনাতেও যেন ছেদ পড়েছে। রাজনীতি কিংবা সংগীত—দুই ক্ষেত্রেই নয়; তাঁর সব উদ্বেগ এখন ভাইয়ের সুস্থতাকে ঘিরে।
এনাম সরকারও দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনের পরিচিত মুখ। প্রায় তিন দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত তিনি। সাপ্তাহিক ‘পূর্ণিমা’, ‘দৈনিক জনকণ্ঠ’, ‘দৈনিক ইনকিলাব’সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করেছেন। সর্বশেষ এসএ টিভির বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কালচারাল জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশের (সিজেএফবি) সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন।
জন্মদিনে সাধারণত শিল্পীরা নিজেদের প্রাপ্তি, নতুন কাজ কিংবা সামনের দিনের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন। বেবী নাজনীনের এবারের জন্মদিনের গল্পটা অন্য রকম। অগণিত মানুষের ভালোবাসা ও শুভেচ্ছার মধ্যেও তাঁর মন পড়ে হাসপাতালের শয্যায় থাকা ছোট ভাইয়ের কাছে। তাই শুভেচ্ছার জবাবে এবার তাঁর একটাই আবেদন—‘আমার ভাইয়ের জন্য সবাই দোয়া করবেন।’