নতুন সপ্তাহের শুরুতে বিনিয়োগকারী ও সাধারণ গ্রাহকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে শেয়ারবাজারের সূচক, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার এবং নিত্যপণ্যের দাম। বিশেষ করে গত সপ্তাহের সূচকের গতিপ্রকৃতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবের কারণে এসব খাতের দিকে নজর রাখছেন অনেকে।

শেয়ারবাজারের কথা বললে, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) অধিকাংশ সূচকেই অগ্রগতি দেখা গেছে। গত বৃহস্পতিবার ডিএসইএক্স সূচক আগের দিনের চেয়ে ১৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৭৮৬ পয়েন্টে পৌঁছেছে। ডিএসইএস সূচক প্রায় ৫ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৫৬ পয়েন্ট হয়েছে। তবে ডিএস–৩০ সূচক দশমিক পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১৬২ পয়েন্টে থেমেছে। যদিও গত সপ্তাহে সার্বিকভাবে সূচক কমেছে, তবে এই অবস্থানগুলো ধরেই আজ রোববার লেনদেন শুরু হবে।

বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ডলারের দামে ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ডলারের দাম ১২১ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে ১২২ টাকা ২০ পয়সার মধ্যে ছিল। ওই দিন ইউরো, পাউন্ড, ইউয়ান, অস্ট্রেলীয় ডলার ও সিঙ্গাপুরি ডলারসহ অধিকাংশ প্রধান মুদ্রার দাম কমেছে, তবে রুপি ও ইয়েনের দাম অপরিবর্তিত ছিল। উল্লেখ্য, খোলাবাজারে এবং ব্যাংকভেদে এই দামের তারতম্য হতে পারে।

আমানতকারী ও ঋণগ্রহীতাদের জন্য সুদের হার এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, ব্যাংক খাতে ঋণের গড় সুদহার ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং আমানতের গড় সুদহার ৬ দশমিক ২২ শতাংশ। তবে ব্যাংক ও স্কিমভেদে এই হারে পার্থক্য থাকে। দীর্ঘমেয়াদী এফডিআর-এ অনেক ব্যাংকে ১০ শতাংশের বেশি সুদ পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে চলতি হিসাবে তা ৪–৫ শতাংশের মতো। সঞ্চয়পত্রের সুদের হারও ১০ শতাংশের ওপরে। অন্যদিকে, ব্যক্তিগত ও শিল্পঋণের সুদহার ১৩–১৪ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে, যদিও এসএমই ঋণের হার কিছুটা কম। নীতি সুদহার কমানোর প্রভাব এখনো ঋণের সুদে দৃশ্যমান হয়নি।

স্বর্ণের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় করে গতকাল শনিবার ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিপ্রতি ৫ হাজার ৫৮২ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকা।

অন্যদিকে, নিত্যপণ্যের বাজারে ডিম ও মুরগির দাম বেড়েছে। গতকাল রাজধানীর বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় এবং ডিমের ডজন প্রায় ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। শাকসবজির দাম আগের তুলনায় কিছুটা কমলেও তা এখনো চড়া পর্যায়ে রয়েছে।