ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরে আসতে হবে এবং তার জন্য ফাঁসির রশি প্রস্তুত বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।

শনিবার (২২ আগস্ট) নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) অডিটোরিয়ামে ২১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম-২৬ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, "শেখ হাসিনা এর আগে কয়েকবার বলেছেন, আমি আসছি, আসব। পাশেই আছি, যেকোনও মুহূর্তে টুক করে ঢুকে যাব। কিন্তু আসি আসি বলে আর আসেন না। এটা তাদের একটি চরিত্র।"

তিনি আরও বলেন, "আমার মনে হয়, বাংলাদেশের পুরো জাতি অপেক্ষা করছে—এই ফ্যাসিবাদ ফিরবে। তার যে ফাঁসির রায় হয়েছে, সেই ফাঁসির রায় কার্যকর করার জন্য তাকে ফিরতে হবে।"

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, "শেখ হাসিনা গণহত্যা চালিয়েছেন। তার ফাঁসির রায় দ্রুত কার্যকর করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানাই। ইন্টারপোলের মাধ্যমে ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে হলেও তাকে দেশে আনতে হবে এবং তাঁর ফাঁসির রায় কার্যকর করতে হবে।"

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি ক্যাম্পাসগুলোতে র‍্যাগিং, সিট দখল এবং ভর্তি বাণিজ্য বন্ধ করে সেগুলোকে আদর্শ ও নৈতিকতার ‘মার্কেট প্লেস’ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

শিবির সভাপতি বলেন, "সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নবীন শিক্ষার্থীরা আসার পর জ্যেষ্ঠদের দ্বারা র‍্যাগিং বা হেনস্তার শিকার হন। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে ইসলামী ছাত্রশিবির শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার কাউন্সিলিং, সফট ও হার্ড স্কিল ডেভেলপমেন্ট এবং ইথিক্যাল ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করছে।"

রাজনীতির বর্তমান অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, "রাজনীতি এখন অনেকের কাছে ‘ওয়ান কাইন্ড অফ বিজনেস’ বা এক ধরনের ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে এই ধরনের চেতনা আর চলবে না। এখন ছাত্রদের কাছে যেতে হবে আইডিওলজি, থিম এবং নতুনত্ব নিয়ে।"

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য ও প্রশাসক নিয়োগের সমালোচনা করে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, "দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচন পরিচালনা কমিটির দায়িত্বে থাকা রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ডের ব্যক্তিকে ভিসি বানানো হয়েছে। সাদা দল বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল না করলে কেউ ভিসি হতে পারবেন না—এমন নগ্ন দলীয়করণ আমরা জুলাই-পরবর্তীতে দেখতে চাইনি। সহস্রাধিক শহীদ এই ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরশাসনমুক্ত ক্যাম্পাসের জন্য জীবন দেননি।"

সবশেষে ছাত্রদের অধিকার আদায়ে প্রয়োজনে আবারও রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, "তরুণ প্রজন্ম যে সংস্কার ও গণভোটের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আন্দোলন করেছে, তা অনতিবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকারের বোধোদয় না হলে সাধারণ জনগণ ও ছাত্রসমাজ আবারও রাজপথে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তুলবে।"