কবিতার পাতায় ফুটে উঠেছে মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালি সংস্কৃতির এক রূঢ় বাস্তবচিত্র। আলফ্রেড খোকনের ‘দালালঘর’ কবিতায় উঠে এসেছে সাধারণ মানুষের অসহায়তা এবং প্রভাবশালীদের কাছে পৌঁছানোর কঠিন পথ। কবি লিখেছেন,
"তোমার বাড়িতে উঠোন নেই, বারান্দায় সোফাসেট
উঠোন থাকলে আমরা অনেকেই যেতে পারতাম;
যদিও যাবার ইচ্ছে সকলের আছে কিছু কমবেশি
এত দিন তুমি কেন অপরিচিত ছিলে, ওগো দেশি"
প্রয়োজনে যখন সরাসরি কর্তৃপক্ষের কাছে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে, তখন দালালের মাধ্যমই হয়ে ওঠে একমাত্র পথ। এই বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তুলে কবি বলেন,
"আমরা প্রত্যেকে তোমার বাড়িমুখে চেয়ে উন্মুখ
একান্ত জরুরি প্রয়োজনে তোমার মাধ্যম ছাড়া
তার কাছে এখন আর পৌঁছানো যাবে না সহজ
প্রথমে তোমার কাছে পৌঁছুতে পারলেই নিবেদন
কিন্তু তোমার বাড়ি পর্যন্ত যেতে আমার মূলধন
অনেকটাই ফুরিয়ে যায় মনোবল থামে না মোটেও"
কবিতায় সাহসী এবং সুযোগসন্ধানী শ্রেণির বৈপরীত্য স্পষ্ট। যারা সরাসরি প্রভাব খাটাতে পারে, তাদের জন্য পথ সহজ। কবি বর্ণনা করেছেন,
"উঠোন না থাকার পরেও যারা যায়, তারা সাহসী
সরাসরি বারান্দায় ঢুকে গিয়েই সোফাসেটে বসা
লিটন নিঃশব্দে এগিয়ে আসবে গাদাগাদি ভিড়ে
তার চোখে দ্যুতি নতুনের, যত্নে রচিত লাল চা;"
সিস্টেমের জটিলতা এবং দালালের মধ্যস্থতায় কীভাবে সাধারণ মানুষ আটকা পড়ে, তা ফুটে উঠেছে কবিতার পরবর্তী অংশে:
"প্রথমে অবাক হলে মূল কর্তা কিছুটা দেরিতে আসে
যারা জানে তোমাকে নিবেদনের যথাযোগ্য হিস্ট্রি
অপেক্ষায় থাকে, কখন সে এসে খুলে দেবে সিঁড়ি
তোমার হস্তক্ষেপ ছাড়া যেহেতু পৌঁছানো অসহজ
প্রথমে কয়েক দিন এমনি এমনি আসা হবে রোজ;
তারপর অদৃশ্য হাতখান হাতছানি দেবে নিয়মিত—"
কবিতার শেষাংশে দুর্নীতির চূড়ান্ত রূপ হিসেবে আর্থিক লেনদেনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। কবি লিখেছেন,
"হঠাৎ একদিন তোমার নামে খোলা হবে নীল বিও
এবার অ্যাকাউন্টে জমা দেয়া শুরু হলো, দিয়ো তুমিও"