কবি মাসুদ খানের লেখনীতে ফুটে উঠেছে মাটির মমতা ও প্রকৃতির সৃজনশীলতা। তাঁর ‘অন্নপূর্ণা’ কবিতায় তিনি বর্ণনা করেছেন কীভাবে এক অনুর্বর ভূমি লাঙলের ফলায় শাণিত হয়ে হয়ে উঠেছে উর্বর ও শস্যশ্যামল। কবির ভাষায়, “ধীরে ধীরে হল্য করে তুলেছ এ অহল্যাভূমিকে।লাঙলের ফলা নয় যেন শক্ত শাণিত ঋ-কার, তা-ই দিয়েজ্যোৎস্নারাতে ফুটিয়ে তুলেছ আদিগন্ত সারি-সারি হলরেখা।”
প্রকৃতির রহস্যময়ী রূপ এবং মেঘ-বৃষ্টির মেলবন্ধনে ভূমির এই রূপান্তরকে কবি ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি লিখেছেন, “মেঘের ভেতরে ভোরে ছিটিয়ে দিয়েছ শস্যবীজসন্ধ্যাবেলা ভারী হয়ে আসে ওই গর্ভবতী গম্ভীর জলদতারপর একটানে নামিয়ে এনেছ ঘন মেঘদল, বীজসহ,অনুর্বর ভূমিতে তোমার।”
এই সৃজন প্রক্রিয়ার ফলেই ভূমি আজ ত্রিফসলা ও সমৃদ্ধ। অন্নপূর্ণার এই পূর্ণতাকে অভিবাদন জানিয়ে কবি বলেন, “সেই থেকে এ ভূমি উর্বরা, ত্রিফসলা, শস্যশ্যাম।আর এই না হলে অন্নদা তুমি অন্নপূর্ণা,স্তন্যদা ও স্বয়ংসম্পূর্ণা!” কবিতার শেষে কবি এই সৃজনশীল যাত্রার সাথে যুক্ত থাকার আকুতি জানিয়েছেন, “তোমার যেকোনো যোজনায়পরবর্তী যেকোনো প্রবর্তনায় যেনশামিল থাকতে পারি আমি।”