শিশুকালে মেরুদণ্ডের হাড় বাঁকাজনিত সমস্যা বা স্কলিওসিসে আক্রান্ত হওয়ার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। জন্মগত ত্রুটি থেকে শুরু করে স্নায়ু ও মাংসপেশির নানা সমস্যা এর জন্য দায়ী হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই এই সমস্যা দেখা দেয়।

স্কলিওসিসে মেরুদণ্ড সোজা না থেকে একপাশে 'এস' বা 'সি' আকৃতিতে বেঁকে যায়। ছেলে ও মেয়ে—যেকোনো শিশুই এতে ভুগতে পারে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৩ শতাংশ শিশুর বয়ঃসন্ধিকালে স্কলিওসিস ধরা পড়ে, যার বেশির ভাগই কারণ অজানা। সাধারণত ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। জন্মগত স্কলিওসিস ভ্রূণের গঠনগত ত্রুটির কারণে হতে পারে, যার সঙ্গে স্পাইনা বিফিডার মতো সমস্যাও যুক্ত থাকতে পারে। এছাড়া স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রফি, সেরেব্রাল পালসি, মাসকুলার ডিসট্রফি, আঘাত, মেরুদণ্ডে টিউমার কিংবা প্রদাহের কারণেও স্কলিওসিস হতে পারে। পরিবেশগত কারণ বা জিনগত প্রবণতার পাশাপাশি হৃৎপিণ্ড বা কিডনির জন্মগত ত্রুটি থাকা শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি থাকে।

মৃদু স্কলিওসিসের লক্ষণগুলো শুরুতে খুব সামান্য মনে হলেও শারীরিক অসামঞ্জস্যের মাধ্যমে তা বোঝা যায়। যেমন— শিশু সোজা হয়ে দাঁড়ালে মাথাটি ঠিক কেন্দ্রে থাকে না, দুই কাঁধ উঁচু-নিচু মনে হতে পারে, কাঁধ বা বুকের হাড় বাঁকা বা একদিকে বের হয়ে থাকতে পারে। এছাড়া নিতম্ব অসমান হওয়া এবং হাঁটার সময় একদিকে ঝুঁকে থাকার লক্ষণ দেখা দেয়। তীব্রতর ক্ষেত্রে শিশু ব্যথা অনুভব করতে পারে এবং প্রস্রাবে সমস্যা বা অনবরত প্রস্রাব ঝরতে পারে।

মেরুদণ্ডের বক্রতা বৃদ্ধি পেলে পাঁজরের হাড়ের গঠনে ত্রুটি দেখা দেয়, যা ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ডের সংকোচন-প্রসারণে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট ও রক্তসঞ্চালনে সমস্যা হতে পারে। শারীরিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ায় স্বাভাবিক হাঁটাচলা ও বসার ভঙ্গি ব্যাহত হয় এবং পিঠে ও কোমরে ব্যথা হতে পারে। শারীরিক পরিবর্তনের কারণে শিশুরা মানসিক চাপে ভোগে, নিজেদের আলাদা মনে করে এবং তাদের আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে।

শিশুর শরীরে এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থোপেডিক সার্জন এক্স-রে, সিটি স্ক্যান বা এমআরআই পরীক্ষার মাধ্যমে রোগটি নিশ্চিত করেন। চিকিৎসার ক্ষেত্রে সাধারণ ব্যায়াম, ব্রেস পরানো কিংবা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।