নতুন মৌসুমে নতুন খেলোয়াড়, নতুন কোচ—এগুলো যেমন থাকে, তেমনই ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের নতুন মৌসুমে পেনাল্টির সংখ্যাতেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। ২০২৬–২৭ মৌসুম শুরু হচ্ছে আজ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনালের সঙ্গে কভেন্ট্রি সিটির ম্যাচ দিয়ে। মৌসুম শুরুর আগেই রেফারিদের জন্য যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তাতে বক্সের ভেতর টানাটানি ও ধস্তাধস্তিতে এবার রেফারির বাঁশি আগের চেয়ে বেশি শোনা যেতে পারে।
নিয়মে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। তবে ইংল্যান্ডের রেফারিদের প্রধান হাওয়ার্ড ওয়েব জানিয়েছেন, কর্নার ও ফ্রি–কিকের সময় বক্সের ভেতরে ‘অ–ফুটবলীয়’ যে টানাটানি ও ধাক্কাধাক্কি হয়, সেটা কমাতে এবার আগের চেয়ে বেশি সক্রিয় থাকবেন রেফারিরা।
গত মৌসুমে সেট পিসের সময় জার্সি ধরা, দুই হাত দিয়ে প্রতিপক্ষকে আটকে রাখা, ধাক্কা দেওয়া বা মাটিতে ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনা ছিল নিয়মিত। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মৌসুমে ভিএআরের ২০টি ‘মিসড ইন্টারভেনশন’–এর মধ্যে এক-চতুর্থাংশই ছিল এমন ঘটনা, যেখানে বল থেকে দূরে থাকা কোনো খেলোয়াড়কে ফেলে দেওয়া হলেও পেনাল্টি দেওয়া হয়নি।
এবার রেফারিদের কয়েকটি বিষয়ে বিশেষভাবে নজর দিতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে আছে কোনো খেলোয়াড় বলের দিকে মনোযোগ না দিয়ে শুধু প্রতিপক্ষকে আটকে রাখছেন কি না, বল খেলার বা বলের জন্য চ্যালেঞ্জ করার চেষ্টা না করে দুই হাত দিয়ে প্রতিপক্ষকে ধরে রাখছেন কি না, কিংবা জার্সি ধরে দীর্ঘ সময় বা এমনভাবে টানাটানি করা হচ্ছে কি না, যাতে তাঁর চলাচল ব্যাহত হয়।
ওয়েব ইঙ্গিত দিয়েছেন, এখন থেকে ‘কম সতর্কতা, বেশি শাস্তি’ ফর্মুলার প্রয়োগ দেখা যাবে। তার মানে এও নয় যে বক্সে সামান্য স্পর্শ হলেই পেনাল্টি। ফুটবলে শারীরিক লড়াইয়ের জায়গা থাকবে এবং রেফারিরা এখনো ‘উচ্চ সীমা’ বজায় রাখবেন। কিন্তু যে টানাটানির সঙ্গে ফুটবল খেলার কোনো সম্পর্ক নেই, সেগুলো এবার আগের চেয়ে বেশি ধরা হবে।
রেফারির এই কড়াকড়িতে পেনাল্টি বেড়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রিমিয়ার লিগের সর্বশেষ মৌসুমে পেনাল্টি ও সরাসরি ফ্রি–কিক বাদ দিয়ে ২৬৯টি গোল হয়েছিল সেট পিস থেকে, যা মোট গোলের রেকর্ড ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের মধ্যে এটি ছিল সর্বোচ্চ। আর সেট পিসের ক্ষেত্রেই যেহেতু টানাটানি, ধাক্কাধাক্কি বেশি দেখা যায়, রেফারির কঠোরতার কারণে পেনাল্টির ঘটনাও বাড়ারই কথা।