ফিফার ১২২ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো ক্ষমতাসীন সভাপতিকে সরাতে আনুষ্ঠানিক অনাস্থা ভোটের মুখে পড়তে পারেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির শীর্ষ পদে থাকা ইনফান্তিনোকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে হলে বিরোধীদের প্রথমে ৪৩টি দেশের সমর্থন জোগাড় করতে হবে।

বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যালঘু মালিকানা বিক্রির পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ বেড়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন ও কনকাকাফের প্রভাবশালী কর্মকর্তারা তাকে সরাতে অনাস্থা ভোটের সম্ভাবনা বিবেচনা করছেন।

ফিফার বিধি মোতাবেক, ২১১ সদস্যদেশের অন্তত ২০ শতাংশ দেশ লিখিতভাবে আবেদন জানালে বিশেষ কংগ্রেস আয়োজন করতে হবে। অর্থাৎ ৪৩টি দেশের সমর্থন পেলেই ফিফা কাউন্সিল বিশেষ কংগ্রেস ডাকতে বাধ্য থাকবে। আবেদন পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে এই কংগ্রেস আয়োজন করতে হবে এবং একবার আলোচ্যসূচি নির্ধারিত হলে তা পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, ৪৩ দেশের সমর্থন পাওয়া খুব কঠিন নয়। উয়েফার সদস্য সংখ্যা ৫৫ এবং এএফসির ৪৭। ফলে যেকোনো একটি মহাদেশীয় সংস্থা ঐক্যবদ্ধ হলে সহজেই প্রয়োজনীয় সমর্থন পাওয়া সম্ভব। বিশেষ কংগ্রেসে উপস্থিত প্রতিটি দেশ একটি করে ভোট দিতে পারবে। কোনো দেশ অন্যের হয়ে বা চিঠির মাধ্যমে ভোট দিতে পারবে না।

ইনফান্তিনোকে সরাতে ঠিক কত ভোট প্রয়োজন, তা বিধিতে আলাদাভাবে লেখা নেই। তবে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ ভোটের ৫০ শতাংশের বেশি সমর্থন পেলেই যেকোনো প্রস্তাব গৃহীত হয়। অনাস্থা ভোটের ক্ষেত্রেও এই সংখ্যাগরিষ্ঠতার নিয়ম প্রযোজ্য হওয়ার কথা।

ভোটে হেরে ইনফান্তিনো পদ হারালে সাময়িকভাবে দায়িত্ব নেবেন ফিফার দীর্ঘদিনের সহসভাপতি এবং বর্তমান এএফসি সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা। পরবর্তী কংগ্রেসে নতুন সভাপতি নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।

এর আগে কোনো ফিফা সভাপতি আনুষ্ঠানিক অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি হননি। ২০০১ সালে বিপণন সহযোগী প্রতিষ্ঠান আইএসএল-এর পতন ও পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে সেপ ব্ল্যাটারের বিরুদ্ধে এমন ভোটের আলোচনা হয়েছিল। তৎকালীন উয়েফা সভাপতি লেনার্ট ইয়োহানসন প্রকাশ্যেই ব্ল্যাটারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। ব্ল্যাটারকে বিশেষ নির্বাহী কমিটির বৈঠকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের মুখেও পড়তে হয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত কোনো ভোট হয়নি। ২০০২ সালেও মহাসচিব মিশেল জেন-রুফিনেনকে ঘিরে বিরোধের সময় ব্ল্যাটারের বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের দাবি উঠেছিল, যা কংগ্রেস পর্যন্ত পৌঁছায়নি।

ইনফান্তিনোর ক্ষেত্রেও ভোট এখনো নিশ্চিত নয়। বিরোধীদের প্রথমে ৪৩টি দেশকে একমত করতে হবে এবং পরে কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পেতে হবে। এই উদ্যোগ ব্যর্থ হলে ২০২৭ সালের নির্বাচনে পুনরায় সভাপতি হওয়ার পরিকল্পনায় থাকা ইনফান্তিনো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারেন। তবে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তির সামনে এখন এমন এক শঙ্কা, যার নজির ফিফার ইতিহাসে নেই।