মিরপুর ১১ নম্বর মেট্রোস্টেশনের ব্যস্ত ফুটপাতে সন্ধ্যার পর থেকেই লাল রঙের ছোট ভ্যানগাড়িতে চানাচুর ও নানা মসলার পসরা সাজিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন এক তরুণ। তাঁর তৈরি বিশেষ মুড়ি মাখা খেতে অনেক সময় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয় ক্রেতাদের। প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ প্লেট মুড়ি মাখা বিক্রি করেন নাজমুল।
২০২৩ সালে এইচএসসি পাস করার পর বরিশালের বাড়ি থেকে পরিবারের হাল ধরতে ঢাকায় আসেন নাজমুল। চাকরির পেছনে না ছুটে নিজের কিছু করার ইচ্ছা থেকে ওই বছরই মেট্রোস্টেশনের নিচে মুড়ি মাখা বিক্রি শুরু করেন তিনি। বর্তমানে তাঁর এই দোকানটি মিরপুর ১১ এলাকার মানুষের আড্ডা ও আনন্দের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
নাজমুলের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিন তাঁর দোকানে তিন থেকে চার হাজার টাকার মুড়ি বিক্রি হয়। উপকরণের ওপর ভিত্তি করে প্রতি প্লেটের দাম ৩০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০, ৬০ এবং ১০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এই সাধারণ মুড়ির দোকান থেকেই মাসে তাঁর আয় হয় প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা।
নাজমুল বলেন, "আসলে ব্যবসা ছোট হোক বা বড়, সব ব্যবসা একটা পর্যায়ে যেতে বা দাঁড়াতে সময় লাগে। আর কোনো ব্যবসারই বিক্রিটা ধরাবাঁধা থাকে না। কোনো কোনো দিন বিক্রি ছয় হাজার টাকা হয়, আবার কখনো একটু কমে যায়।"
নিজের সততা ও পরিশ্রমে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছেন নাজমুল। সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত তাঁর দোকানে ক্রেতাদের ভিড় থাকে। এই জনপ্রিয়তার মূল রহস্য তাঁর নিজস্ব রেসিপিতে তৈরি বিশেষ মসলা। রসুনের আচার, বাদামের বিশেষ আচার, সেদ্ধ ডিম ও সুবাসিত মসলার মিশ্রণে তৈরি এই মুড়ি মাখার স্বাদ একদম আলাদা।
নাজমুলের মতে, যেকোনো উদ্যোগের শুরুতে বিক্রি কিছুটা কম থাকলেও খাবারের মান এবং কাস্টমার সার্ভিস ভালো হলে সেই উদ্যোগকে বড় করা সম্ভব। তিন বছর আগে শুরু হওয়া এই ব্যবসায় এখন নাজমুলের পাশাপাশি আরও দুজন মানুষ কাজ করছেন।
নিজের এই উদ্যোগকে একটি পরিচিত ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নাজমুল বলেন, “আপাতত আমি ব্যবসার মান ধরে রাখা আর কাস্টমারদের ভালোবাসা অর্জনের ওপরই নজর দিচ্ছি। তবে আমার মূল লক্ষ্য হলো এই দোকানটাকে আরও বড় করে দাঁড় করানো, যেন স্বাদের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর পরিবেশে এই স্ট্রিট ফুড মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারি। ব্যবসার পরিধি যত বাড়বে, আরও অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, এটাই আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।”