বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হয়েছে এক মাস আগে। তবে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার হার ঘিরে ছড়িয়ে পড়া ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব এখনো থামেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করা হয়েছিল, ম্যাচটিতে ‘কিছু একটা ঘটেছিল’। এমনকি আর্জেন্টিনা ইচ্ছাকৃতভাবে ফাইনাল ছেড়ে দিয়েছিল বলেও অভিযোগ তোলেন কেউ কেউ।

এত দিন পর সেই গুঞ্জনের জবাব দিয়েছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। বিশ্বকাপ ফাইনালের এক মাস পূর্তিতে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে সমালোচকদের বক্তব্যই ভিন্নভাবে ফিরিয়ে দিয়েছে সংস্থাটি।

ভিডিওর শুরুতেই বলা হয়, ‘এক মাস আগে কিছু একটা ঘটেছিল। অনেকেই চায়নি সেটি ঘটুক। কিন্তু আর্জেন্টিনা আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছিল।’

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার যাত্রার বিভিন্ন মুহূর্ত তুলে ধরে এএফএ জানায়, একাধিক কঠিন ম্যাচে ঘুরে দাঁড়িয়ে এবং সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল লিওনেল স্কালোনির দল। তাদের দাবি, প্রতিকূল প্রচারণার মধ্যেও খেলোয়াড়েরা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছেন।

‘কিছু একটা ঘটেছিল’ কথাটির জবাবে ভিডিওতে বলা হয়, ‘কেউ এমন কথা বললে তাকে বলবেন, হ্যাঁ, কিছু একটা ঘটেছিল। একটি দল জেতার জন্য সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত লড়েছিল এবং কখনো হাল ছাড়েনি। সবকিছু জেতার পর এবার তাদের হারতে হয়েছে।’

ভিডিওর শেষ দিকে রানার্সআপ পদক নেওয়ার সময় লিওনেল মেসির কান্নার দৃশ্য দেখানো হয়। এএফএর বার্তা ছিল, জয়-পরাজয় খেলার অংশ হলেও চেষ্টা থামিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

এদিকে আলাদা এক বার্তায় ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব ছড়ানো ব্যক্তিদের কঠোর সমালোচনা করেছেন এএফএ সভাপতি ক্লদিও ‘চিকি’ তাপিয়া। আর্জেন্টিনা দল ফাইনাল ছেড়ে দিয়েছিল বলে যে অভিযোগ উঠেছিল, সেটিকে ‘মিথ্যা ও নিকৃষ্ট প্রচারণা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

তাপিয়া লেখেন, ‘এক মাস পেরিয়েছে। সেই ফাইনালের পর মিথ্যা, অপপ্রচার এবং আর্জেন্টিনা দল ইচ্ছাকৃতভাবে হেরেছে বলে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চলেছে।’

যারা এসব অভিযোগ তুলেছিলেন, তাদের কেউ এখনো ক্ষমা চাননি বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এএফএ সভাপতি। তার ভাষায়, ভুল হতেই পারে। কিন্তু কোনো প্রমাণ ছাড়া একটি গল্প তৈরি করে খেলোয়াড়দের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং পরে নীরব হয়ে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

তাপিয়া বলেন, ‘জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের দেশদ্রোহী বলার পর আর ফেরার পথ থাকে না। যারা মাঠে নিজেদের উজাড় করে দিয়েছিলেন, তাদের কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ব্যাখ্যা দিতে হবে তাদের, যারা মিথ্যা বলেছেন।’

গত ১৯ জুলাই নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরেছিল আর্জেন্টিনা। ১০৬তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন ফেরান তোরেস। এই জয়ে ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন।