ডারউনে ইতিহাস গড়ার পর এবার সিরিজ জয়ের সুযোগ সামনে বাংলাদেশের। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন দলকে খেলতে হবে সম্পূর্ণ নতুন এক মাঠে। ম্যাকের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় এর আগে কখনো কোনো টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে মাঠটির অতীত পরিসংখ্যান বাংলাদেশের পেসারদের জন্য আশার আলো দেখাতে পারে।
এখন পর্যন্ত এই মাঠে মাত্র পাঁচটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে পেসারদের স্পষ্ট আধিপত্য দেখা গেছে। গতির বোলাররা এখানে ১২২টি উইকেট নিয়েছেন ২৩.৬৭ গড়ে। অন্যদিকে, স্পিনারদের ৫০টি উইকেটের গড় ৩১.৭৬।
ম্যাকেতে সবচেয়ে সফল বোলার হিসেবে পরিচিত অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার মাইকেল কাসপ্রোভিচ। মাত্র ৭.৯১ গড়ে তিনি নিয়েছেন ১২টি উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৩৮টি টেস্ট, ৪৩টি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টি খেলা এই বোলারের সাফল্য মাঠটিতে পেসারদের বাড়তি সুবিধার ইঙ্গিত দেয়।
সবশেষ ২০২৪ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে এখানে প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছিল অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ ও ভারত ‘এ’। সাত উইকেটে জয় পাওয়া সেই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার পেসার ব্রেন্ডন ডগেট প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ছয় উইকেট শিকার করেছিলেন।
মাঠটির পাঁচটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে প্রথম ইনিংসের গড় সংগ্রহ ২৫৭ রান। টস জেতা অধিনায়ক তিনবার আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং টসজয়ী দল চারবার ম্যাচে জয়লাভ করেছে। ফলে ব্যাটিং কৌশলের পাশাপাশি টস এই ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
ডারউনের প্রথম টেস্টেও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের মূল কারিগর ছিলেন পেসাররা। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসের সবকটি উইকেটই নিয়েছেন বাংলাদেশের গতির বোলাররা, যার মধ্যে হাসান মাহমুদ একাই ছয় উইকেট নেন। ম্যাকের এই পরিসংখ্যান হাসান ও তাসকিন আহমেদের মতো বোলারদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
তবে পরিসংখ্যানের নমুনা অত্যন্ত সীমিত। এই মাঠে আগে কোনো টেস্ট না হওয়ায় পাঁচ দিনের ম্যাচে উইকেটের আচরণ কেমন হবে, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। ম্যাচ যত সামনে বাড়বে, স্পিনাররা কতটা সহায়তা পাবেন সেটিও একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ছয়টায় শুরু হবে দ্বিতীয় টেস্ট। ডারউনে নয় উইকেটের জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে বাংলাদেশ। ম্যাকেতে জয় অথবা ড্র করতে পারলেই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়বে শান্তর দল।