বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের পিডিবি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ঘটনায় পিডিবির এক উপসহকারী প্রকৌশলী মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের পিডিবি কার্যালয়ে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দ্রুত ট্রান্সফরমার স্থাপন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দেওয়া হলে বিক্ষুব্ধ জনতা সেখান থেকে চলে যান।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, "বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।"
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ আগস্ট রাতে পৌর এলাকার শিমরাইল গ্রামের একটি ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে যায়। এরপর থেকে ওই গ্রামটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হন। আজ বেলা ১১টার দিকে গ্রামের প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন বাসিন্দা পিডিবি কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা কার্যালয়ের কাচ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ড্রয়ার ভাঙচুর করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সজিব মিয়া, নূরুল হক, আতিকুল ইসলাম ও জহিরুল ইসলামের অভিযোগ, নতুন ট্রান্সফরমার দেওয়ার কথা বলে পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলীকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি, যা তাঁদের ক্ষুব্ধ করে তোলে।
তবে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন হামলায় আহত উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম। তিনি বলেন, "ট্রান্সফরমারের জন্য ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে লাইনের সংযোগ ও মেরামতের কাজে লাইনম্যানদের কিছু খরচাপাতি সব জায়গায় দেওয়া হয়।"
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় এক মাস আগেও একই গ্রামের ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছিল। তখন নতুনটির পরিবর্তে একটি পুরোনো ট্রান্সফরমার বসানো হয়, যা কিছুদিন পর আবারও নষ্ট হয়ে যায়। বারবার পুরোনো ট্রান্সফরমার ব্যবহারের কারণে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না বলে তাঁরা মনে করেন।
পিডিবি ঈশ্বরগঞ্জের আবাসিক প্রকৌশলী হামজা ইমাম জানান, শিমরাইল গ্রামের ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়ার বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। তবে ট্রান্সফরমারের সংকট থাকায় নতুনটি পেতে দেরি হয়েছে।