দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ভোটের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় শপথ গ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া অস্পষ্টতার অবসান ঘটাল আইন মন্ত্রণালয়। সংবিধানের সংশ্লিষ্ট বিধান পর্যালোচনার পর মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি স্পিকার।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পাঠানো এক চিঠির জবাবে আইন মন্ত্রণালয় এই মতামত প্রদান করেছে। মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকার যখন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন, তখন স্পিকারের দায়িত্বসমূহ ডেপুটি স্পিকার পালন করেন। সেই প্রেক্ষিতে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর দায়িত্বও ডেপুটি স্পিকার পালন করতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি মনোনীত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম।
সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুলের নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তবে একাধিক প্রার্থী থাকায় সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপতির শপথ পরিচালনার সাংবিধানিক বিধান সম্পর্কে স্পষ্ট মতামত জানতে চেয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আইন মন্ত্রণালয়ে ফাইল পাঠিয়েছিল। পর্যালোচনা শেষে মন্ত্রণালয় জানায়, স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করায় তার সাংবিধানিক দায়িত্বগুলো ডেপুটি স্পিকার পালন করছেন। সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকারের পদ শূন্য হলে কিংবা স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করলে ডেপুটি স্পিকার তার দায়িত্ব পালন করেন। সেই হিসেবে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর ক্ষেত্রে ডেপুটি স্পিকারই যথাযথ কর্তৃপক্ষ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য এই নির্বাচনে ভোট দেবেন, যার মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০ জন সদস্য রয়েছেন। তবে চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা ও সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সুযোগ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বাতিল করায় ওই আসনটি বর্তমানে শূন্য।
ভোট গ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণার পর আগামী শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বঙ্গভবনে এই অনুষ্ঠান হলেও এর সার্বিক আয়োজনের দায়িত্ব পালন করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতিসহ রাষ্ট্র ও সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সংসদ ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরীকে (৯২ ভোট) পরাজিত করেছিলেন।