নওগাঁর ধামইরহাট ও মান্দা উপজেলায় মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটে যাওয়া দুটি পৃথক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। এসব ঘটনায় জড়িত হয়ে দুজন নারী হত্যাকারী এবং এক ভগ্নিপতি হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ আগস্ট ধামইরহাটের তালপুকুর মাহমুদুর এলাকার একটি আমবাগান থেকে এক অজ্ঞাত নারীর দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে শনাক্তকরণের মাধ্যমে পুলিশ নিশ্চিত করে যে নিহতের নাম মেরুনা বেগম। তদন্তে জানা যায়, অনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং বিয়ের চাপ প্রত্যাখ্যান করায় মেরুনাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। গত ১৪ আগস্ট রাতে সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল হোসেন ও তার সহযোগীরা মেরুনাকে মোটরসাইকেলে করে নির্জন স্থানে নিয়ে যায় এবং বেল্ট দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর পরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে মরদেহে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। এই ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল হোসেন ও তার সহযোগী তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি হত্যায় ব্যবহৃত আলামতও জব্দ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, পারিবারিক বিরোধের জেরে মান্দা উপজেলার শামুকখোলা গ্রামে ইসমাইল হোসেন নামের এক ব্যক্তি তার ভগ্নিপতি মামুনুর রশীদকে কুপিয়ে জখম করেন। গত ১৫ আগস্ট ফজরের নামাজ চলাকালে সালাম ফেরানোর মুহূর্তেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় মামুনুর রশীদকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ১৮ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন। গত ১৯ আগস্ট মহাদেবপুর থেকে ইসমাইল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তাক্ত হাসুয়া উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, নৃশংস দুটি অপরাধের আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।