ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় আবু জাফর নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আবু জাফর ওই হোটেলের ইজারাদার। এছাড়া ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেলের আরও দুই কর্মীকে আটক করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার ভোরে কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, আবু জাফরকে কলকাতার এনটালি মেইন মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে কলকাতা পুলিশ।

গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে নিউমার্কেট থানায় হোটেলে আগুন লাগার খবর পৌঁছালে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সাথে সাথে ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থাকে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়। দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানের পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা হোটেল থেকে প্রায় ৬০ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেন। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে নয়জনকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়, যাদের মধ্যে দুজন নারী ও একটি শিশু ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত নয়জনের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি এবং দুজন ভারতীয়। আহত হয়েছেন আরও ছয়জন, যাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে চারজন কুষ্টিয়ার বাসিন্দা— দেবাশীষ দত্ত (৩৯), তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন (২৭), ছেলে শর্ণশীষ দত্ত (৩) ও শ্বশুর আকরাম হোসেন (৬০)। চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ১৫ দিন আগে ভারতে গিয়েছিলেন এই পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া ঢাকার সাভারের আহমেদ বাবু (৩৭) এবং সাতক্ষীরার কালিগঞ্জের বাসিন্দা এস এম আলিমুজ্জামান ও রেবতী সরকারও প্রাণ হারিয়েছেন।

ভারতীয় নিহতদের মধ্যে ঝাড়খন্ডের সন্দীপ পাশওয়ান, যিনি ওই হোটেলের কর্মচারী ছিলেন এবং পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির বাসিন্দা যোগনারায়ণ আগরওয়াল (৬৮) রয়েছেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পশ্চিমবঙ্গের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, “কলকাতায় যেসব হোটেল চলছে, সেগুলোর বৈধ অনুমতিপত্র ও অগ্নিনিরাপত্তার ছাড়পত্র আছে কি না, তা যাচাই করতে একটি দল গঠনের পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার।”

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, “ওই ভবনের ৩টি তলায় প্রায় ১০টি হোটেল চালানো হচ্ছিল। কক্ষগুলোও ছিল ছোট। এ ধরনের ব্যবস্থাপনা কোনোভাবেই চলতে দেওয়া যায় না।”

পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখানে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে আগুনের সঠিক কারণ এখনো জানা যায়নি। জানা গেছে, হোটেলটি কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল।