রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কাজীহাটা গ্রামের কৃষক বাবলু এবার ১০ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। জমির জন্য ইউরিয়া দরকার হলেও নিজ গ্রামের পরিবেশকের কাছে সার পাননি তিনি। গত মঙ্গলবার সকালে বাবলু পাশের দামকুড়া বাজারের পাশে দেওপাড়া ইউনিয়নের পরিবেশকের দোকানে যান। লাইনে দীর্ঘ অপেক্ষার পর তাঁকে দেওয়া হয় মাত্র ২০ কেজি সার। অভিমানে বাবলু (৫০) সেই সারও না নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।

আমন ধানের জমিতে এখন সারের প্রয়োজন। বাবলুর মতো কৃষকেরা সরকার নির্ধারিত পরিবেশকদের দোকানে ভিড় করছেন। রাজশাহীতে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, এক দোকানে ডিএপি আছে কিন্তু ইউরিয়া নেই, আবার অন্য দোকানে টিএসপি থাকলেও ডিএপি মেলে না। যেখানে সার পাওয়া যাচ্ছে সেখানেও দাম তুলনামূলকভাবে বেশি পড়ার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে যশোরে টিএসপি সারের সংকটের পাশাপাশি খোলাবাজারে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও পাওয়া গেছে।

চাহিদার তুলনায় কম বরাদ্দ পাওয়ায় বাজারে কিছুটা সংকট আছে বলে জানিয়েছে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। তবে যশোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, বাজারে সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে।

এদিকে কৃষকদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত পরিবেশকেরা ভর্তুকির সার বাইরে কালোবাজারে বিক্রি করছেন। পরে খোলাবাজারে সেই সার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এক এলাকার সার অন্য এলাকায় পাচারের অভিযোগে গত তিন দিনে রাজশাহীর চার উপজেলায় চারজন পরিবেশককে মোট ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে যশোরে ২ আগস্ট দুই পরিবেশককে মোট ১০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রাজশাহীতে পর্যাপ্ত পরিমাণে সার রয়েছে বলে দাবি করেছেন জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। চাহিদার চেয়ে কম বরাদ্দের বিষয়টি জানা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোথাও বেশি দামে বিক্রি বা পাচার করা হলে সঙ্গে সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, যে পরিমাণ সার বরাদ্দ চাওয়া হয়, তা কখনোই পাওয়া যায় না। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে শুধু ইউরিয়া সারের চাহিদা দেওয়া হয়েছিল ৩ লাখ ৫ হাজার ৫৪৩ মেট্রিক টন, বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ৭১ হাজার ১০৯ মেট্রিক টন। টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারও চাহিদার তুলনায় কয়েক গুণ কম বরাদ্দ পাওয়া যায়।

মাঠের চাহিদা অনুযায়ী সার বরাদ্দ দিতে না পারার কারণে এ বছর আগের বছরের বরাদ্দের প্রায় সমপরিমাণ চাহিদা দেওয়া হলেও সেটিও পর্যাপ্তভাবে পাওয়া যায়নি। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ইউরিয়ার চাহিদা দেওয়া হয়েছিল ৭৭ হাজার ৪৭০ মেট্রিক টন। পাওয়া গেছে ৭১ হাজার ১০৯ মেট্রিক টন। টিএসপির ২৫ হাজার ৮৮০ মেট্রিক টন চাহিদার বিপরীতে বরাদ্দ হয়েছে ১৭ হাজার ২৭৪ মেট্রিক টন। ডিএপি ৫৪ হাজার ৫৩০ মেট্রিক টন চাহিদার বিপরীতে দেওয়া হয়েছে ৪৯ হাজার ৫৭৮ মেট্রিক টন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে বলা হয়েছে, আগস্ট মাসের জন্য রাজশাহীতে ৭ হাজার ৫৭৪ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ করা হয়েছে। ১৮ আগস্ট পর্যন্ত পাওয়া গেছে ৪ হাজার ৭২৪ মেট্রিক টন। ডিএপি ২ হাজার ৬৪৭ মেট্রিক টনের মধ্যে পাওয়া গেছে ২ হাজার ১৮২ মেট্রিক টন। টিএসপি ১ হাজার ৫১১ মেট্রিক টনের মধ্যে পাওয়া গেছে ১ হাজার ২৪০ মেট্রিক টন। এমওপি (পটাশ) ১ হাজার ৭৬০ মেট্রিক টনের মধ্যে পাওয়া গেছে ১ হাজার ৪৯৬ মেট্রিক টন।

যশোরে এবার ১ লাখ ৩২ হাজার ৬৯২ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। চলতি আগস্ট মাসের জন্য ৩ হাজার ৮২ মেট্রিক টন টিএসপি, ২ হাজার ৭৮২ মেট্রিক টন ডিএপি, ২ হাজার ৬৩১ মেট্রিক টন এমওপি ও ১০ হাজার ৭০৪ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ২ হাজার ৩৭ মেট্রিক টন টিএসপি, ২ হাজার ৪৮৪ মেট্রিক টন ডিএপি, ১ হাজার ৬২২ মেট্রিক টন এমওপি এবং ৬ হাজার ৯৫ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার তোলা হয়েছে।

রাজশাহী জেলায় চলতি মৌসুমে আমন ধানের চাষ করা হয়েছে ৮৩ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে। ওই হিসাবে বিঘাপ্রতি ডিএপি সারের বরাদ্দ ৪ কেজি ২০০ গ্রামের মতো। কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিঘাপ্রতি আমন ধানে ডিএপি প্রয়োগের আদর্শ পরিমাণ হচ্ছে ১০ কেজি।

এদিকে জেলা পুকুর রয়েছে ১৭ হাজার ৭৭৪ হেক্টর। এসব পুকুরের জন্য কোনো সার বরাদ্দ নেই বলেও কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে এসব পুকুরের জন্য প্রতি তিন মাসে ডিএপির চাহিদা হচ্ছে ১ হাজার ৯৯১ মেট্রিক টন। ফলে মাঠে ফসলের বরাদ্দ কমে যাচ্ছে বলে আলোচনা রয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা গেছে, জুলাইয়ের শুরু থেকে মধ্য অক্টোবর পর্যন্ত আমন মৌসুম চলবে। মধ্য জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চারা রোপণের সময়। এ সময় খেতে টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সার দিতে হয়। চারা রোপণের পর ব্যবহার করা হয় ইউরিয়া।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, চাওয়ার চেয়ে বরাদ্দ একটু কম পান। আর পুকুরে যে সার দেওয়া হয়, সেটাও তাদের বরাদ্দে নেই।

গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের বিসিআইসির (বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন) পরিবেশক নজরুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন সার নিতে তাঁর দোকানে কৃষকদের ভিড় হয়। গত মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, কেউ এক ঘণ্টা আবার কেউ দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও সার পাচ্ছেন না।

গোদাগাড়ীর কদমশহর গ্রামের রাশিদুল ইসলাম নিজ এলাকার বিএডিসির (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন) পরিবেশক রেজাউল করিমের কাছে সার নিতে গিয়ে না পেয়ে দেওপাড়ার নজরুল ইসলামের দোকানে আসেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শুধু ইউরিয়া মাইরি ধানের থোড়ই তো হবে না।’ কদমশহর গ্রামের আরেক চাষি আকবর আলীও সেখানে পাওয়া যায়। তিনি দুই বস্তা ইউরিয়া পেয়েছেন; তবে তাঁর এক বস্তা ডিএপি দরকার ছিল, কিন্তু তিনি তা পাননি। দুঃখ করে বললেন, নিজের টাকা দিয়ে সার কিনবেন, তা–ও পাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে পরিবেশক নজরুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, চাষিরা বেশি করে সার নেওয়ার জন্য বেশি জমিতে আবাদ দেখাচ্ছেন। তাঁদের খোঁজ নিয়ে জেনে যার যতটুকু দরকার, তা–ই দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, তার ডিএপি ২০ মেট্রিক টন ছিল, যা শেষ হয়ে গেছে।

দেওপাড়া থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে গোদাগাড়ীর পালপুর গ্রাম। সেখানকার বিএডিসির পরিবেশক আবদুর রহিমের কাছে সার না পেয়ে এলাকার চাষিরা অন্য জায়গায় ছুটছেন। খবর পেয়ে মঙ্গলবার বেলা একটার দিকে পালপুর গিয়ে দেখা যায়, আবদুর রহিমের দোকানে কোনো সার নেই। দোকানে তাঁর ছেলে ছিলেন। তিনি আবদুর রহিমের সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে দেন।

মুঠোফোনে আবদুর রহিম বলেন, তিনি ১৮ মেট্রিক টন ডিএপি, ১০ মেট্রিক টন টিএসপি ও ১০ মেট্রিক টন এমওপি সারের বরাদ্দ পেয়েছিলেন। প্রথম দিকে পাওয়ার কারণে তাঁর সব সার আগেই শেষ হয়ে গেছে।

এ সময় আবদুর রহিমের দোকানের সামনে অনেক কৃষক জড়ো হন। তাঁরা গুদাম খুলে দেখানোর দাবি তুললে দোকানের গুদাম খুলে দেখানো হয়। সেখানে প্রায় ১০০ বস্তা এমওপি সার আছে বলে দেখা যায়। পরে আবদুর রহিম ফোন করে দাবি করেন, বিএডিসির একজন পরিবেশকের কাছ থেকে তিনি এই ১০০ বস্তা এমওপি সার কিনে রেখেছেন। তবে চাষিরা অভিযোগ করেন, এটি অবৈধ মজুত। সংকট তৈরি করে পরে এই সার তিনি বেশি দামে বিক্রি করবেন।

ঘটনাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালককে জানানো হলে ওই দিন বিকেলেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান সেখানে অভিযান চালিয়ে ২২ বস্তা এমওপি সার জব্দ করেন এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একইভাবে কদমশহর এলাকায় খায়রুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ীর দোকান থেকে অবৈধভাবে মজুত করা ১৪ বস্তা ইউরিয়া, ৮ বস্তা টিএসপি ও ৮ বস্তা এমওপি সার জব্দ করা হয়। এ জন্য খায়রুলেরও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দুই দোকানের জব্দ সারগুলো ন্যায্যমূল্যে চাষিদের মধ্যে বিক্রি করে টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় কৃষকেরা কলা, আম, পেঁপে, পেয়ারা ও ড্রাগনের বাগানে টিএসপি সার ব্যবহার করেন। কিন্তু চাহিদামতো তাঁরা এই সার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তুলেছেন। গত সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় ভায়ালক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের আকাশ এন্টারপ্রাইজ নামের দোকানে গিয়ে দেখা যায়, চাষিরা টিএসপি সারের জন্য ধরনা দিচ্ছেন। তাঁদের কাউকেই চাহিদামতো সার দেওয়া হচ্ছে না।

ফরিদপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম বলেন, তাঁর দুই বিঘা কলা ও দুই বিঘা আমন ধান আছে। তাঁর দুই বস্তা টিএসপি সার দরকার হলেও তাঁকে মাত্র ১৫ কেজি দেওয়া হচ্ছে। বাঁকড়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম বলেন, ৫০ কেজির জায়গায় তিনি ২৫ কেজি টিএসপি সার পেয়েছেন।

পরিবেশকের এক কর্মচারী দাবি করেন, তাঁরা ১০ মেট্রিক টন (২০০ বস্তা) টিএসপি পেয়েছিলেন। এখন ২৯ বস্তা রয়েছে, যার মধ্যে থেকে অল্প করে কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে। একজনকে চাহিদামতো দিলে অন্যরা ফিরে যাবে বলেও তাঁর যুক্তি।

কৃষকেরা বলছেন, কোনো কোনো পরিবেশকের সার রাতারাতি বিক্রি হয়ে গেছে। কোথায় বিক্রি হয়েছে, তা কেউ জানেন না। এমন অভিযোগ পেয়ে উপজেলার বুধিরহাটের তিনজন পরিবেশকের দোকানে গিয়ে তাঁদের ঘর বন্ধ পাওয়া গেছে। দুজনের সঙ্গে ফোনে কথা হয়; তাঁরা জানান, তাঁদের পাঁচ মেট্রিক টন করে টিএসপি বরাদ্দ ছিল, তা শেষ হয়ে গেছে। আরেকজনকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, কৃষক পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত প্রতি বস্তা (৫০ কেজির) টিএসপি সারের খুচরা মূল্য ১ হাজার ৩৫০ টাকা (২৭ টাকা কেজি), এমওপি ১ হাজার টাকা (২০ টাকা কেজি) এবং ডিএপি ১ হাজার ৫০ টাকা (২১ টাকা কেজি)। প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) ইউরিয়া সারের খুচরা মূল্য ১ হাজার ৩৫০ টাকা (২৭ টাকা কেজি)। তবে ওয়ার্ড পর্যায়ে খুচরা বিক্রেতারা এর চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে গোদাগাড়ীর রাজাবাড়ি বাজারে শহিদুল ট্রেডার্স থেকে ১ হাজার ৭৫০ টাকা বস্তা হিসেবে ডিএপি সার কেনেন মুলকিডাইং গ্রামের কৃষক মমিন। তিনি ইউরিয়া সার কেনেছেন প্রতি বস্তা ১ হাজার ৫০০ টাকা দরে।

সাংবাদিক পরিচয়ে কোথাও গিয়ে সারে বিক্রয়মূল্য জানা যাচ্ছে না। পরিচয় গোপন করে স্থানীয় একজন রাজনৈতিককে সঙ্গে করে এই প্রতিবেদক শহিদুল ট্রেডার্সে যান। মালিক সাইদুর রহমান ওই নেতার কাছে স্বীকার করেন যে তিনি ১ হাজার ৭০০ টাকা বস্তা দরে ডিএপি সার বিক্রি করেছেন। পাশের সাদ এন্টারপ্রাইজের কর্মচারী কবির হোসেন বললেন, তাঁর ডিএপির মান একটু খারাপ; তিনি ১ হাজার ৬০০ টাকা বস্তা হিসাবে বিক্রি করছেন।

দেশের সারের সবচেয়ে বড় বিপণনকেন্দ্র যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া। গত এক সপ্তাহ নওয়াপাড়া সারের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, তিউনিসিয়ায় উৎপাদিত প্রতি বস্তা কালো টিএসপি ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা, মিসরে উৎপাদিত টিএসপি ১ হাজার ৭০০ টাকা, মরক্কোয় উৎপাদিত টিএসপি ১ হাজার ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। জর্ডানে উৎপাদিত ডিএপি ১ হাজার ৬৫০ টাকা এবং চীনে উৎপাদিত ডিএপি ১ হাজার ৫৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এমওপি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা দরে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কৃষি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দে বেসরকারি আমদানিকারকের সারে উৎপাদিত দেশের নাম থাকে। তবে বিএডিসির আমদানি করা সারে উৎপাদিত দেশের নাম থাকে না। কৃষকের পছন্দ তিউনেসিয়ায় উৎপাদিত টিএসপি (কালো) সার। কৃষকের পছন্দের বিষয়টি মাথায় রেখে বেসরকারি আমদানিকারকেরা কৌশলে পরিবেশকদের কাছ থেকে সার কিনে বেশি দামে ওই সার বিক্রি করছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, চলতি আমন মৌসুমে জেলায় কোনো প্রকারের সারের কোনো সংকট নেই। কৃষক পর্যাপ্ত সার পাচ্ছেন। কৃষকের বেশি দামে সার কেনার কোনো সুযোগ নেই।

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার নারাঙ্গালী গ্রামের কৃষক মো. আবদুল আলিম (৫৮) এবার চার বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে ঘুরে ঘুরে খোলাবাজার থেকে ৫২ টাকা কেজি দরে ২০ কেজি টিএসপি কিনে খেতে দিয়েছি। আর ১ হাজার ৫০০ টাকা করে দুই বস্তা ইউরিয়া কিনেছি। চারার বয়স ২০ দিন। খেতে টিএসপি সার দিতে হবে। কিন্তু কোনো সার পাচ্ছি না।’