মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের (এনসিসি) সাবেক চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আজ বুধবার তাঁর পক্ষে এই আবেদন দাখিল করেন আইনজীবী রাগীব রউফ চৌধুরী। আবেদনের প্রেক্ষিতে গঠিত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পুনর্বিবেচনার বিষয়ে আগামী ৩১ আগস্ট আদেশ জানাবে ট্রাইব্যুনাল।

শুনানির সময় আইনজীবী রাগীব রউফ চৌধুরী বলেন, "তাঁর মক্কেলের বয়স ৭৪ বছর। তিনি কোনো রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তিনি একজন ব্যবসায়ী, একটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন।" তিনি আরও জানান, ২০০৯ সালে তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়, যা পরবর্তীতে ২০১৭ সালে ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয় এবং সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ আনা হয়।

মামলাটি নিয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ট্রাইব্যুনালে তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে যে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছিল, সেখানে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি পুনঃতদন্তে পাঠালেও সেই তদন্তেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ মেলেনি। তা সত্ত্বেও তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয় এবং বর্তমানে মামলাটি সূচনা বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, "তাঁরা কনফিউজড (দ্বিধান্বিত)। তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে গঠিত আনুষ্ঠানিক অভিযোগের পুনর্বিবেচনা করা হবে নাকি সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করা হবে।"

বিষয়টি নিয়ে ট্রাইব্যুনাল মন্তব্য করেন, "তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ না থাকলে এগোবো কী করে।"

এর পরিপ্রেক্ষিতে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, "তাঁরা (ওই সময়ের প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা) নিজেরাও বলেছেন, তোফাজ্জলের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ নেই। তখনই ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল। এটা এখন তাঁদের (বর্তমান ট্রাইব্যুনাল) মাথার ওপর এসে পড়েছে।"

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তোফাজ্জল হোসেন, যে দিন ট্রাইব্যুনাল-১ তাঁকে জামিন প্রদান করেন।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১-এর অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।