নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় মুরগি চুরির অপবাদ দিয়ে চল্লিশোর্ধ্ব এক নারীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

গত শুক্রবার রাতে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় উপস্থিত বেশ কয়েকজন মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করেন, যার মধ্যে ২০ সেকেন্ডের একটি ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, মধ্যবয়স্ক এক নারীকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন তাঁকে ঘিরে ছবি ও ভিডিও তুলছেন। একপর্যায়ে ওই নারী মুখ ঢাকার চেষ্টা করলে একজন তাঁর মুখের কাপড় সরিয়ে দেন এবং অন্য একজন তাঁর হাতে কয়েকটি মুরগি ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

নির্যাতনের বিচার চেয়ে আজ বুধবার দুপুরে এক রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী নারী। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "তাঁকে মুরগি চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মারধর, নির্যাতন ও শ্লীলতাহানি করা হয়েছে।" সংবাদ সম্মেলনে তিনি জড়িত ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

অন্যদিকে, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ওই নারীর মামলাটিকে হয়রানিমূলক দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, মুরগি চুরির ঘটনা ধামাচাপা দিতেই ওই নারী থানায় মিথ্যা মামলা করে এলাকার লোকজনকে হয়রানি করছেন।

থানায় দায়ের করা এজাহারে ভুক্তভোগী নারী উল্লেখ করেন, তাঁর স্বামী প্রবাসে থাকেন এবং তিনি হাঁস-মুরগি ও ছাগল পালন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। আসামিদের সঙ্গে তাঁর জায়গাজমি সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তিনি ঘরে বসে মেয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় কয়েকজন লোক তাঁর বসতবাড়ির টিনের দরজা খুলে ভেতরে ঢোকেন। হামলাকারীরা তাঁর ফোন কেড়ে নেন, কাপড় টেনেহিঁচড়ে শ্লীলতাহানি করেন এবং জোর করে পাশের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাঁদের ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেন এবং দুজন তাঁর সোনার চেইন ছিনিয়ে নেন বলে তিনি দাবি করেন।

নারীর অভিযোগ, সেখানে উপস্থিত এক ব্যক্তি তাঁর বিরুদ্ধে খামার থেকে মুরগি চুরির অভিযোগ তোলেন। এরপর রাত একটা পর্যন্ত তাঁকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে কিল-ঘুষি ও চড়-থাপ্পড় মেরে আহত করা হয়। অভিযুক্তরা তাঁর ঘর থেকে চারটি মুরগি এনে তিনি চুরি করেছেন বলে অপবাদ দেন। ওই সময় স্থানীয় চেয়ারম্যান উপস্থিত থাকলেও তিনি নির্যাতনকারীদের পক্ষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তকণ্ঠকে জানান, ওই নারীকে আটকের পর তিনি সেখানে যান। তখন নারী মুরগি চুরির কথা স্বীকার করেন এবং তাঁর ঘর থেকে ৪৫টি মুরগি উদ্ধার করে খামারিকে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে রাত একটার দিকে ওই নারী স্বজনদের নিয়ে চেয়ারম্যানের বাড়িতে এসে শ্লীলতাহানি ও গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ করেন এবং মামলা করার কথা জানান।

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ তৎপর হয়। গাছে বাঁধার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে। নারীর লিখিত অভিযোগ নারী নির্যাতন দমন আইনে নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে। মামলায় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।"