মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে সিন্ডিকেটমুক্ত, স্বচ্ছ এবং কম খরচে কর্মী প্রেরণের লক্ষ্যে দেশের সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) একদল সদস্য। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ না রেখে বৈষম্যহীন প্রক্রিয়ায় সব বৈধ এজেন্সিকে সমান সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
বুধবার (১৯ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বায়রার সদস্যরা এসব দাবি তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে তাঁরা বলেন, বিগত সময়ে সীমিতসংখ্যক এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠাতে গিয়ে অনিয়ম, উচ্চ অভিবাসন ব্যয় এবং নানা ব্যবস্থাপনার জটিলতা তৈরি হয়। এর ফলে একাধিকবার মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। ইতিমধ্যে অনিয়মের দায়ে সরকার ৪৯টি এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, আবারও ২৫টি এজেন্সিকে কেন্দ্র করে নতুন করে সিন্ডিকেট বা একচেটিয়া নিয়োগব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা চলছে। তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অপচেষ্টা চলছে বলেও তাঁরা শঙ্কা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পুনরায় সিন্ডিকেট প্রথা চালু না করার জোর দাবি জানানো হয়।
পরিস্থিতি নিরসনে বায়রার পক্ষ থেকে প্রধানত নিম্নলিখিত দাবিগুলো উপস্থাপন করা হয়—
সব এজেন্সির সমান সুযোগ: নেপালসহ অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সব বৈধ ও যোগ্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দিতে হবে।
স্বচ্ছ নীতিমালা: ২৫, ৫০ বা ১০০টি এজেন্সির হাতে শ্রমবাজার কুক্ষিগত না করে উন্মুক্ত ও যুক্তিযুক্ত নীতিমালার ভিত্তিতে নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে হবে।
MOU-এর ধারা সংশোধন: মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ এজেন্সি বাছাই করবে—এই বিতর্কিত ধারা সংশোধন করে বাংলাদেশ সরকার বা নিয়োগকর্তার মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর বিধান চালু করতে হবে।
BOESL-এর মাধ্যমে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’: যদি বাধ্য হয়ে সীমিতসংখ্যক এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠাতে হয়, তবে সরকারি প্রতিষ্ঠান বোয়েসলের (BOESL) সক্ষমতা বাড়িয়ে এর অধীনে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালু করতে হবে।
স্বল্প খরচে কর্মী প্রেরণ: বিএমইটির (BMET) মাধ্যমে স্বচ্ছ ডেটা ব্যাংক তৈরি করে অভিবাসন ব্যয় নির্ধারণ এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে কিস্তিতে অভিবাসন ব্যয়ের টাকা পরিশোধের সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বায়রার সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি রিয়াজুল ইসলাম, সাবেক ইসি সদস্য ও এমপি মজিবুর রহমান মঞ্জু, সাবেক যুগ্ম মহাসচিব এম এ সালাম, মফিজ উদ্দিন, নুরুল আমিন, ফখরুল ইসলামসহ সংগঠনটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।