কয়েক দিনের ব্যবধানে দুটি ম্যাচে হঠাৎ মাঠে লুটিয়ে পড়ে ফুটবল ভক্তদের মনে উদ্বেগ তৈরি করেছিলেন জামাল মুসিয়ালা। এবার সেই রহস্যের সমাধান করে নিজেই শারীরিক অবস্থার কথা জানালেন বায়ার্ন মিউনিখের এই জার্মান তারকা।

মুসিয়ালা জানিয়েছেন, তার শরীরে স্নায়বিক কার্যকারিতাজনিত স্বল্পস্থায়ী একটি সমস্যা শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে অল্প সময়ের জন্য ‘অ্যাবসেন্স’ বা স্বাভাবিক সচেতনতা ও প্রতিক্রিয়ায় ছেদ ঘটতে পারে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, এই সমস্যাটি চিকিৎসাযোগ্য এবং বর্তমানে তিনি ভালো আছেন।

মঙ্গলবার হাইডেনহাইমের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার কয়েক মিনিটের মধ্যেই হঠাৎ পড়ে যান ২৩ বছর বয়সী মুসিয়ালা। দ্রুত তাকে ঘিরে ধরেন দুই দলের ফুটবলাররা এবং মাঠে ছুটে আসেন চিকিৎসকেরা। কিছুক্ষণ পর তিনি উঠে দাঁড়াতে পারলেও আর খেলায় ফিরতে পারেননি।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত জানান মুসিয়ালা। সমর্থকদের আশ্বস্ত করে তিনি লেখেন, ‘সবার আগে বলতে চাই, আমি ভালো আছি।’ এরপর তিনি জানান, চিকিৎসকেরা তার মধ্যে স্বল্পস্থায়ী এবং সহজে চিকিৎসাযোগ্য ‘অ্যাবসেন্স’ শনাক্ত করেছেন, যা একটি স্নায়বিক কার্যকারিতার সমস্যার কারণে হচ্ছে। সাম্প্রতিক দুই ম্যাচে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর কারণও এটিই বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এর আগে গত শনিবার আরবি লাইপজিগের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচেও একইভাবে মাঠে পড়ে গিয়েছিলেন মুসিয়ালা। তখন চিকিৎসকেরা মাঠেই তার প্রাথমিক পরীক্ষা করেন। তবে হাইডেনহাইমের বিপক্ষে পুনরায় একই ঘটনা ঘটায় তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়ে গিয়েছিল।

নিজের সমস্যাটি দেখতে ভয়ংকর মনে হলেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে জানিয়েছেন মুসিয়ালা। তিনি জানান, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এবং তার স্বাস্থ্যের জন্য বাড়তি কোনো ঝুঁকি নেই বলে তাকে জানানো হয়েছে। জার্মান এই মিডফিল্ডার বলেন, ‘আমি সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা পাচ্ছি এবং খুবই আশাবাদী।’ একই সঙ্গে চিকিৎসকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার কথাও জানান তিনি।

ফুটবল ক্যারিয়ার চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারেও ইতিবাচক মুসিয়ালা। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাভাবিক জীবনযাপন ও খেলাধুলা চালিয়ে যাওয়া তার জন্য নিরাপদ এবং সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ার অংশ বলে জানিয়েছেন তিনি। এই সময়ে বায়ার্ন মিউনিখ, পরিবার ও চিকিৎসকদের পূর্ণ সমর্থন পাচ্ছেন তিনি।

তবে চিকিৎসার বিস্তারিত তথ্য ব্যক্তিগত রাখতে চেয়েছেন মুসিয়ালা। সমর্থকদের উদ্বেগ ও শুভকামনার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি নিজের গোপনীয়তাকে সম্মান করার অনুরোধ করেছেন।

হাইডেনহাইম ম্যাচের পর বায়ার্নের ক্রীড়া পরিচালক ম্যাক্স এবার্লও জানান, ক্লাব আগে থেকেই মুসিয়ালার পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত ছিল। তবে বিষয়টি প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত তারা খেলোয়াড়ের ওপরই ছেড়ে দিয়েছিলেন।

পরপর দুই ম্যাচে ঘটে যাওয়া ঘটনায় যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, নিজের বক্তব্যের মাধ্যমে তা দূর করার চেষ্টা করেছেন মুসিয়ালা। আপাতত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থেকেই ফুটবল চালিয়ে যেতে চান এই বায়ার্ন তারকা।