বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিধি আরও বিস্তৃত করতে আগ্রহী ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। এই লক্ষ্য অর্জনে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করে ব্যবসা সহজ করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন তাঁরা।

মঙ্গলবার মতিঝিলে ফেডারেশন ভবনে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের নেতাদের সঙ্গে এক মধ্যাহ্নভোজ সভায় এই আগ্রহ প্রকাশ করে ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। সভায় সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ও বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক। ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন সিআইআইয়ের মহাপরিচালক চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি।

বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ফজলুল হক ও চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি আলোচনার বিস্তারিত জানান। ওই সম্মেলনে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পাশাপাশি এফবিসিসিআইয়ের সাবেক তিন সভাপতি উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সিআইআই প্রতিনিধিদল দুটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। এর একটির লক্ষ্য হবে অবকাঠামো খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) উন্নয়ন। অন্যটি সেমিকন্ডাক্টর, গ্রিন হাইড্রোজেন, ব্যাটারি স্টোরেজ ও ডেটা সেন্টারের মতো ভবিষ্যৎমুখী শিল্পে সহযোগিতার বিষয়ে কাজ করবে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং টাস্কফোর্সের রূপরেখা নির্ধারণের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

সিআইআইয়ের মহাপরিচালক চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি বলেন, "ভারতের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে ব্যবসা বাড়াতে চান। বিনিয়োগ বাড়াতে চান।" তিনি আরও বলেন, "কীভাবে উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থা বাড়ানো যায়, সেটি নিয়ে কাজ করতে হবে। সংলাপ না বাড়াতে পারলে ব্যবসার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা কমবে না।"

প্রতিনিধিদলে বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে উল্লেখ করে চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি জানান, তাঁদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। তবে ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধি পেলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও উন্নত হবে বলে তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে, এফবিসিসিআই প্রশাসক ফজলুল হক সাংবাদিকদের জানান, সভায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বাণিজ্যে বিদ্যমান অশুল্ক বাধা এবং ভিসা প্রাপ্তির জটিলতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।