দেশের বর্তমান জ্বালানিসংকট দ্রুত সমাধান করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, জ্বালানি খাতে ভালো বা অনেকটা ভালো অবস্থায় পৌঁছাতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে।
জাহেদ উর রহমান জানান, জ্বালানিসংকট নিরসনে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের সুফল পেতে সময় লাগবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, ‘রাতারাতি সব করে ফেলব—এমনটা আমরা বলছি না। অন্তত দুই বছর লাগবে জ্বালানির ক্ষেত্রে ভালো বা অনেকটা ভালো অবস্থায় যেতে।’
আজ মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে নজরুল বর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এ কথা বলেন। দেশব্যাপী প্রাথমিক, কারিগরি ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভাগীয় পর্যায়ের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সভাটি আয়োজন করা হয়।
জ্বালানিসংকট প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, দেশের মানুষ যথেষ্ট কষ্টের মধ্যে রয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেও এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, মানুষের দুর্ভোগ সত্য হলেও এর জন্য বর্তমান সরকারকে এককভাবে দায়ী করা সঠিক নয়। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে পুঞ্জীভূত সমস্যার ফল হিসেবেই বর্তমান সংকট তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট টেনে উপদেষ্টা বলেন, দুর্ঘটনার কারণে বন্ধ থাকা দুটি প্ল্যান্ট চালু হলেও গ্যাসের চাহিদার তুলনায় সরবরাহে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট ঘাটতি থেকে যাবে। এই ঘাটতি দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হয়েছে বলেও তিনি জানান।
সরকার জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে জানিয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, গ্যাসিফিকেশন প্ল্যান্টের দুর্ঘটনার পর দ্রুত একটি প্ল্যান্টের অর্ডার দেওয়া হয়েছে। ব্যাকআপ হিসেবে আরও দুটি প্ল্যান্ট আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়নেও সময় লাগবে বলে জানান উপদেষ্টা।
তিনি সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা এবং ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে আনার উদ্যোগের কথাও বলেন। পাশাপাশি এলএনজি কেনার চেষ্টা চলছে এবং স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ শুরু হয়েছে। জরিপের ভিত্তিতে দেশের স্থলভাগে ৪০ থেকে ৫০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে দুটি নতুন রিগ কেনা হয়েছে এবং বিদ্যমান রিগগুলো সক্রিয় রাখার চেষ্টা চলছে। কয়লা নিয়েও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক বাজারের অনিশ্চয়তার প্রসঙ্গ টেনে উপদেষ্টা বলেন, এলএনজির বাজার বর্তমানে খুবই অনিশ্চিত। তাঁর বক্তব্য, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে এবং তা যেকোনো সময় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। হরমুজ প্রণালি এবং বাব আল-মানদেব প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহন নিয়ে সংকট তৈরি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জাহেদ উর রহমান দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর ভাষ্য, সরকারি প্রতিটি স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এ বিষয়ে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
বিরোধী দলের সমালোচনার বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করবে, সেটি স্বাভাবিক। তবে অপ্রয়োজনে বা অযৌক্তিকভাবে কর্মসূচি দিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করতে পারে। তিনি বলেন, ২৭ আগস্ট সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরার জন্য সংসদই বিরোধী দলের সবচেয়ে ভালো জায়গা। সেখানে যুক্তি দিয়ে সরকারের ভুল তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্বাসযোগ্য পরামর্শ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সভায় ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সভাপতিত্ব করেন। এতে ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ উপস্থিত ছিলেন।