ফরিদপুরের ভাঙ্গায় হাইওয়ে থানার সামনে গাড়ি পার্কিং নিয়ে বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার সময় ওই যুবক নিজেকে ‘কমিশনারের ভাগনে’ বলে পরিচয় দেন। এরপরই এক তরুণীকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত গাড়ি চালিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তিনি।

সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সামনে এই ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ২৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, মেরুন রঙের একটি প্রাইভেটকারের চালকের আসনে বসা এক যুবক চরম উত্তেজিত হয়ে আছেন। পাশে থাকা এক তরুণী তাকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও ওই যুবক অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি গাড়ির জানালা দিয়ে হাত বের করে পিস্তল উঁচিয়ে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন। আতঙ্কে ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তিকে দ্রুত দূরে সরে যেতে দেখা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী হাসান আমিনের বর্ণনা অনুযায়ী, ঢাকার দিক থেকে আসা প্রাইভেটকারটি থানার সামনে সড়কের ওপর দাঁড় করানো হলে এক স্থানীয় বাসিন্দা সেটি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন। এতেই শুরু হয় বাগ্‌বিতণ্ডা। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে গাড়ি থেকে নেমে তরুণীটি ওই বাসিন্দাকে চড় মারেন। এরপর গাড়িতে থাকা যুবক নিজেকে ‘কমিশনারের ভাগনে’ দাবি করে ব্যাগ থেকে পিস্তল বের করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন।

হাসান আমিন আরও জানান, আকস্মিক গুলির শব্দে পথচারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই গাড়িটি নিয়ে তারা গোপালগঞ্জের দিকে চলে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই দুজন নেশাগ্রস্ত ছিলেন। তবে তাদের মদ্যপ থাকা কিংবা পরিচয়সংক্রান্ত দাবির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এই বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) রেজওয়ান দিপু বলেন, “ভিডিওটি হাতে পেয়েছি। তবে ভিডিওটি ভাঙ্গার কি না, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এটি ভাঙ্গার ঘটনা হয়ে থাকলে দ্রুত অভিযুক্তকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”