অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের অন্যতম প্রধান কারিগর হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ৩টি শিকার করেন তিনি। ম্যাচে ১১১ রানে ৯ উইকেট নিয়ে জিতেছেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের প্রস্তুতি, পরিকল্পনা ও সেটির সঠিক বাস্তবায়নকেই বেশি গুরুত্ব দিলেন এই পেসার।

ডারউনের মারারা স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়াকে ৯ উইকেটে হারানোর পর হাসান বলেন, ‘ম্যাচের আগের অনুশীলনগুলোর প্রতিটি সেকেন্ডে আমরা নিজেদের উজাড় করে দিয়েছি। মানসিকতা পরিষ্কার ছিল। ফল নিয়ে না ভেবে নিজেদের প্রক্রিয়ায় আস্থা রাখা এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দিকেই মনোযোগ দিয়েছি।’

পাঁচ দিন লড়াই করার প্রস্তুতি নিয়েই মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। হাসান বলেন, ‘আমরা পাঁচ দিন ধরে কঠিন লড়াইয়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলাম। জানতাম, নিজেদের কাজ ঠিকভাবে করতে পারলে ফল এমনিতেই আসবে।’

অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের জন্য আলাদা পরিকল্পনাও তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। কোচ ও বিশ্লেষকদের সঙ্গে ভিডিও দেখে সেই পরিকল্পনা সাজানো হয়েছিল বলে জানান ম্যাচসেরা পেসার। তবে তার মতে, কাগজের পরিকল্পনা মাঠে ধারাবাহিকভাবে কাজে লাগানোই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।

হাসান বলেন, ‘ভিডিও ফুটেজ দেখে কোচ ও বিশ্লেষকদের সঙ্গে আমরা নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু মাঠে ধারাবাহিকভাবে সেগুলো বাস্তবায়ন করাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

ঘাসে ঢাকা উইকেটে প্রথমে বোলিং করেও ধৈর্য হারাননি বাংলাদেশের পেসাররা। হাসানের ভাষায়, ‘এই উইকেটে বোলিং করতে অনেক ধৈর্য ও অধ্যবসায় প্রয়োজন ছিল। প্রতিটি বলে শৃঙ্খলা ধরে রেখে সঠিক লাইন ও লেংথে বোলিং করাই ছিল মূল বিষয়।’

ঐতিহাসিক পারফরম্যান্সের পর বাংলাদেশের পরিবার, বন্ধু ও নিজের এলাকার মানুষের কথাও মনে পড়েছে হাসানের। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আমার পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও এলাকার মানুষ আমার বোলিং এবং ভালো পারফরম্যান্স দেখে অনেক খুশি হবে। আমি জানি, তারা এই মুহূর্তটি উদ্‌যাপন করছে। সেটি আমার কাছে অনেক কিছু।’

হাসানের পেসের পর অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে স্পিনে নেতৃত্ব দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৬৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে স্বাগতিকদের ২৮৪ রানে থামিয়ে দেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ব্যাট হাতেও করেছিলেন ৬৫ রান।

মিরাজের মতে, প্রস্তুতি ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে হারলেও দলের বিশ্বাস নষ্ট হয়নি। তিনি বলেন, ‘প্রস্তুতি ম্যাচে হারের পরও আমাদের বিশ্বাস ছিল। আমরা ভেবেছি, এই কন্ডিশনে এটি আমাদের জন্য দারুণ সুযোগ। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বমানের দল, তাদের অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে। তাদের হারাতে পারলে সেটি আমাদের দেশ ও ক্রিকেটের জন্য অসাধারণ কিছু হবে।’

দলের সাফল্যের মূলমন্ত্র হিসেবে বিশ্বাসের কথাই বলেছেন মিরাজ, ‘আমাদের বার্তা ছিল একটাই, বিশ্বাস রাখতে হবে। বিশ্বাস না থাকলে সামনে এগোনো সম্ভব নয়। পুরো দল হিসেবে আমাদের সেই বিশ্বাস ছিল। প্রয়োজনের সময়ে আমরা ভালো বোলিং ও ব্যাটিং করেছি।’

অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সিদ্ধান্তেরও প্রশংসা করেন মিরাজ। তিনি বলেন, ‘শান্ত খুব ভালো অধিনায়ক। সঠিক সময়ে ভালো সিদ্ধান্ত নেয়। প্রথম ইনিংসে হাসান ৬ উইকেট নিয়েছে, দ্বিতীয় ইনিংসে স্পিনাররা নিয়েছে ৬ উইকেট। এই সমন্বয়টি আমাদের দলের জন্য খুব ভালো।’

ডারউনে গ্যালারিতে উপস্থিত বাংলাদেশি সমর্থকদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন মিরাজ। তার ভাষায়, ‘দেশের সবাই নিশ্চয়ই খুব খুশি এবং গর্বিত। অনেক বাংলাদেশি সমর্থক মাঠে এসেছেন। আমাদের সমর্থন করতে আসার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ। তারা বিশ্বাস করেছিলেন আমরা জিততে পারব। সেই বিশ্বাসও আমাদের জয়ে ভূমিকা রেখেছে।’