সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় শিশুদের ফুটবল খেলা নিয়ে শুরু হওয়া ঝগড়া বড়দের মারামারিতে রূপ নেয়। এই সংঘর্ষে আল আমিন (৩৮) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার দুপুরে জেলার তাহিরপুর উপজেলার বালিয়াঘাট গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
নিহত আল আমিন ওই গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে। এই ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহত ব্যক্তির ছোট ভাই জুয়েল মিয়া জানান, গত শুক্রবার বিকেলে গ্রামের মাঠে শিশুরা ফুটবল খেলছিল। সেই সময় তাঁর ভাগনের পায়ে জোরে ফুটবল দিয়ে আঘাত করে গ্রামের আবদুল লতিফের ছেলে। এর প্রতিক্রিয়ায় তাঁর ভাগনে ওই শিশুকে চড় দেয়। শিশুটি বাড়িতে গিয়ে বাবার কাছে বিষয়টি জানালে এরপর থেকে তাঁদের পরিবারকে বারবার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
জুয়েল মিয়ার ভাষ্যমতে, শুক্রবার রাতে শিশুদের এই বিরোধ মীমাংসার জন্য তিনি বালিয়াঘাট বাজারে আবদুল লতিফের কাছে গেলে উত্তেজিত হয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এরপর গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ১৫ থেকে ২০ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁদের বাড়ির সামনে এসে গালিগালাজ শুরু করেন। জুয়েল মিয়া বলেন, "গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ১৫ থেকে ২০ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আবার তাঁদের বাড়ির সামনে এসে গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁর ভাই আল আমিন প্রতিবাদ করলে তাঁরা বাড়িতে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালান।"
হামলাকারীদের রামদার আঘাতে আল আমিনের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। সংঙ্কটাপন্ন অবস্থায় তাঁকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নওশাদ আহমেদ জানান, আল আমিনকে হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তাঁর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় আহত আরও তিনজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ বলেন, "শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে পরে বড়দের মারামারিতে একজন মারা গেছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহত ব্যক্তির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।"