বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় পর্যাপ্ত বিনোদনকেন্দ্র না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পারনী খালের পাড়। বিশেষ করে ছুটির দিনে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে এবং নৌকায় ঘুরে স্বস্তি খুঁজছেন অসংখ্য মানুষ।
শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের বোয়ালকান্দি সেতু এলাকাটি বর্তমানে স্থানীয়দের অন্যতম বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে শুক্র ও শনিবার বিকেলে এখানে ভিড় বাড়ে বহুগুণ। শেরপুর-কাজীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই খালটি বর্ষার পানিতে পরিপূর্ণ থাকায় নৌকায় ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
গত শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে বোয়ালকান্দি সেতু এলাকায় দেখা যায়, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়িতে করে আসা দর্শনার্থীদের ভিড়। শেরপুরের পাশাপাশি পাশের ধুনট উপজেলার বাসিন্দারাও এখানে ভিড় করছেন। সূর্য ডোবার আগ পর্যন্ত দর্শনার্থীদের আনাগোনা অব্যাহত থাকে।
নৌকায় ঘুরতে আসা শেরপুরের সাইফুল ইসলাম ও লোকমান হোসেন বলেন, "শেরপুর শহরে বিনোদনের তেমন কোনো জায়গা নেই। তাই বর্ষার মৌসুমে খালের পানিতে নৌকায় ঘুরে সময় কাটান তাঁরা।"
প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা তিন কলেজশিক্ষার্থী মুঠোফোনে ছবি তোলার পাশাপাশি পরিবেশের মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। স্থানীয় গোপালপুর গ্রামের যতীন্দ্রনাথ রায় জানান, সব ঋতুতেই মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন। তিনি বলেন, "বর্ষার পর দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়ে যায়। তিন বছর ধরে তাঁরা এমন দৃশ্য দেখে আসছেন।"
দর্শনার্থীদের ভিড়ে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয়ের সুযোগ বেড়েছে। সেতুর দুই পাশে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ১০টি অস্থায়ী দোকানে আখের রস, ফুচকা, মাঠা, বাদাম ও ছোলা বিক্রি হচ্ছে। বাদাম ও ছোলা বিক্রেতা এরশাদ আলী জানান, এখানে এসে এক দিনে তাঁর প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা আয় হয়। মাঠা বিক্রেতা মো. মিলন বলেন, "বিনোদনের জন্য এখানে মানুষের আনাগোনা ছোট ব্যবসায়ীদের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে।"
শহরের আশপাশে খোলামেলা জায়গার অভাবের কথা উল্লেখ করে আনোয়ার হোসেন, রকি হোসেন ও আঞ্জুয়ারা খাতুন জানান, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে চাকরিজীবীরা পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে এখানে আসেন এবং নৌকায় ঘোরার পাশাপাশি খালের পাড়ে সময় কাটান।
খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান পিয়ার উদ্দিন জানান, শেরপুর শহর ও আশপাশের এলাকা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানায় ঘেরা হলেও সরকারি উদ্যোগে এখনো কোনো বিনোদনকেন্দ্র গড়ে ওঠেনি। তিনি বলেন, "বোয়ালকান্দির খোলা পরিবেশ মানুষের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এই জায়গার পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো শিল্পকারখানাও নেই। মানুষ এখানে এসে খোলা প্রকৃতির মধ্যে কিছুটা স্বস্তির সময় কাটাতে পারছেন।"