বর্ষার জলে প্রাণ ফিরে পেয়েছে নদী। টইটম্বুর তুলসীগঙ্গার বুকে ঢেউ, আর দুই তীরে সবুজের সমারোহ। নদীপথ ধরে ধীরে এগিয়ে চলেছে নৌকা। ছইয়ের নিচে কেউ গল্প করছেন, কেউ গান গাইছেন, কেউ আবার মুঠোফোনে ধরে রাখছেন বর্ষার প্রকৃতির ছবি। জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে তুলসীগঙ্গা পেরিয়ে ছোট যমুনা নদী ও আত্রাই নদের পথ ধরে চলনবিলের দিকে নৌকা নিয়ে ছুটছেন ভ্রমণপিপাসুরা।

শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনটির সকালে আক্কেলপুর পৌর শহরের কাঁচাবাজার-সংলগ্ন তুলসীগঙ্গা নদীর ঘাট থেকে পাটুল ও চলনবিলের উদ্দেশে নৌকা ছেড়েছে। পরিবার-পরিজন, বন্ধু কিংবা স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন বয়সী মানুষ এসব নৌকায় উঠেছেন। নৌকা যখন এগোতে থাকে, তখন পেছনে পড়ে থাকে শহরের ব্যস্ততা। সামনে দেখা যায় শুধু পানি, সবুজ আর গ্রামবাংলার চেনা দৃশ্য।

আক্কেলপুরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘বর্ষার সময় নদীর সৌন্দর্য অন্য রকম লাগে। নৌকায় বসে দুই পাশের দৃশ্য দেখতে দেখতে কখন যে সময় চলে যায়, বোঝাই যায় না। তাই প্রতিবছর এই সময় সুযোগ পেলেই বন্ধুদের নিয়ে নৌকায় ঘুরতে বের হই।’

বর্ষায় তুলসীগঙ্গা নদীতে পানি বাড়ায় নৌকা চলাচলও স্বচ্ছন্দ হয়। পাটুলের দিকে এগোলে নদীর দুই পাশে দেখা যায় জলমগ্ন ফসলের মাঠ, গাছপালা ও গ্রামীণ জনপদ। কোথাও জেলেরা মাছ ধরছেন, কোথাও নদীর পাড়ে গরু চরছে। বিকেলের দিকে পানিতে সূর্যের আলো পড়লে বদলে যায় চারপাশের চিত্র।

নৌকায় ঘুরতে আসা জয়পুরহাট আদালতের আইনজীবী শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘শহরের ব্যস্ততা থেকে একটু দূরে গিয়ে প্রকৃতির কাছে সময় কাটানোর জন্য নৌকায় ঘোরা খুব ভালো লাগে। নদীর বাতাস, পানির ঢেউ আর চারপাশের সবুজ সব মিলিয়ে অন্য রকম একটা প্রশান্তি পাওয়া যায়।’

তুলসীগঙ্গা নদী পেরিয়ে ছোট যমুনা নদী ও আত্রাই নদের পথ ধরে নৌকা এগিয়ে যায় চলনবিলের দিকে। বর্ষায় নদ–নদীগুলো পানিতে ভরে ওঠায় নৌপথে চলাচল সহজ হয়। বিস্তীর্ণ জলরাশির মধ্যে নৌকার ছইয়ের নিচে বসে গল্প, আড্ডা, গান আর ছবি তোলায় সময় কাটে ভ্রমণকারীদের।

মানুষের এই আগ্রহকে কেন্দ্র করে বড় নৌকা তৈরি করে ভাড়ায় চালাচ্ছেন আক্কেলপুরের কেশবপুর উত্তর পাড়া মহল্লার বাসিন্দা প্রবীণ চৌধুরী। প্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ করে তিনি একটি বড় নৌকা তৈরি করেছেন। গত জুন মাসে নৌকাটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। তিনি জানান, মানুষ নৌকা ভাড়া নিয়ে চলনবিল, আত্রাই স্লুইসগেট, ত্রিমুহনী ও নান্দাসবিলে ঘুরতে যাচ্ছেন।