বিদেশে পড়তে যাওয়ার প্রস্তুতিতে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, সুপারিশপত্র ও ভিসা–প্রক্রিয়াই সাধারণত সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। তবে এর পাশাপাশি থাকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি—বিদেশি মুদ্রায় পড়াশোনা ও জীবনযাপনের খরচ সামলানোর পরিকল্পনা।

ভিসার আগেই আর্থিক পরিকল্পনা করুন—

বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতিতে সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো শেষ মুহূর্তে বৈদেশিক মুদ্রা ও টিউশন ফি পরিশোধের ব্যবস্থা করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফি দেওয়ার নির্ধারিত তারিখের সঙ্গে মুদ্রা বাজারের ওঠানামার কোনো সম্পর্ক নেই। ফলে ভিসা পাওয়ার পর বা ফি দেওয়ার কয়েক দিন আগে মুদ্রা কিনতে গেলে বিনিময় হার প্রতিকূল হলে বাড়তি অর্থ গুনতে হতে পারে।

.

শিক্ষাঋণের সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা নিলেই সাশ্রয় হয় না—

অনেক ব্যাংক ও ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান শিক্ষাঋণের সঙ্গে বিদেশে অর্থ পাঠানোর সুবিধা দিয়ে থাকে। এতে প্রক্রিয়া সহজ হলেও এটিই সব সময় সবচেয়ে কম খরচের বিকল্প—এমন নিশ্চয়তা নেই।

ব্যাংক বা ঋণদাতার বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার, সার্ভিস চার্জ ও অতিরিক্ত মার্জিন অন্য সেবাদাতাদের সঙ্গে তুলনা করা জরুরি। বড় অঙ্কের অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে বিনিময় হারে মাত্র ১ শতাংশ পার্থক্যও কয়েক বছরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অর্থের ব্যবধান তৈরি করতে পারে।

.যুক্তরাজ্যের চিভনিং স্কলারশিপ, ১৫০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটিতে পড়াশোনার সুযোগ .

টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার খরচ এক নয়—

বিদেশে পড়তে যাওয়ার পর শিক্ষার্থীর প্রধান দুটি খরচ হলো টিউশন ফি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয়। তবে দুটির ধরন আলাদা।

টিউশন ফি সাধারণত বড় অঙ্কের এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর দিতে হয়। ফলে অনেক আগেই এর জন্য অর্থের ব্যবস্থা করা যায়। অন্যদিকে বাসাভাড়া, খাবার, যাতায়াত, মোবাইল বিলসহ দৈনন্দিন খরচ নিয়মিত হয় এবং এর পরিমাণ সব সময় নির্দিষ্ট থাকে না।

.

সব অর্থ পাঠানোর মাধ্যম সমান নয়—

ব্যাংক ট্রান্সফার, ফরেক্স কার্ড, অনলাইন রেমিট্যান্স সেবা ও শিক্ষাসংক্রান্ত বিশেষ পেমেন্ট সেবা—বিভিন্ন বিকল্প রয়েছে। প্রতিটির ফি ও বিনিময় হার আলাদা হতে পারে।

বড় অঙ্কের টিউশন ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে ব্যাংক রেমিট্যান্স সুবিধাজনক হতে পারে। দৈনন্দিন খরচে ফরেক্স কার্ড ব্যবহার করা যেতে পারে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বেশি নগদ অর্থ সঙ্গে রাখা তুলনামূলকভাবে কম সুবিধাজনক। আর ক্রেডিট কার্ড সহজ হলেও এর সঙ্গে অতিরিক্ত চার্জ ও বিনিময় হারজনিত খরচ থাকতে পারে।

.আইইএলটিএসের স্কোর কত দিন বৈধ, দেশভেদে যা জানা জরুরি.

জরুরি তহবিল রাখাও জরুরি—

বিদেশে পড়তে গেলে মাসিক বাজেটের বাইরে একটি জরুরি তহবিল থাকা দরকার। হঠাৎ চিকিৎসা খরচ, বৃত্তি বা অর্থ পাঠাতে দেরি হওয়া কিংবা জরুরি ভিত্তিতে দেশে ফেরা প্রয়োজন—যেকোনো পরিস্থিতিতে এই অর্থ কাজে লাগতে পারে।

নির্দিষ্ট মাসিক খরচের বাইরে আলাদা করে রাখা সামান্য অর্থও এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীর ওপর আর্থিক চাপ কমাতে পারে।

.

নতুন মুদ্রায় বাজেট—

নিজ দেশের মুদ্রায় হিসাব করার অভ্যাস থেকে বিদেশি মুদ্রায় খরচের হিসাব করা সহজ নয়। নতুন দেশে গিয়ে প্রথম কয়েক মাস অনেক শিক্ষার্থী পণ্যের দাম ও নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে ভুল ধারণা করতে পারেন।

একই সঙ্গে বিনিময় হার ওঠানামা করায় দেশে বসে করা বাজেটও পরিবর্তিত হতে পারে। কয়েক মাসের অভিজ্ঞতার পর শিক্ষার্থীরা সাধারণত বুঝতে শুরু করেন, কোন খরচ প্রয়োজনীয়, কোনটি কমানো সম্ভব এবং মাসে বাস্তবে কত অর্থ প্রয়োজন।

অর্থাৎ, বিদেশে পড়াশোনা শুধু একটি ডিগ্রি অর্জনের প্রক্রিয়া নয়; অনেক শিক্ষার্থীর জন্য এটি একই সঙ্গে নিজের অর্থ নিজে পরিচালনা করার একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণও।

.ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এসএসসি উত্তীর্ণদের দিচ্ছে ২ বছরের বৃত্তি, মাসে ২৫০০ টাকা.বিনা মূল্যে ভারতের আইটেক কোর্সে ভর্তি, জেনে নিন আবেদনের বিস্তারিত