প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাষ্ট্রীয় সফরে দিল্লি নিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণ ঘিরে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলেছে। এ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে দুই দিনের সফর আয়োজনের লক্ষ্যে সম্ভাব্য একটি তারিখও ভারত এরই মধ্যে বাংলাদেশকে প্রস্তাব করেছে। তবে প্রস্তাবিত ওই সময়ের বদলে কাছাকাছি সময়ে সফরটি হওয়ার বিষয়টি এখন ভাবছে বাংলাদেশ। আগস্টের তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহের মধ্যে সফরের সূচি নির্ধারণে দুই দেশ পৃথক তারিখ বিবেচনা করছে।
ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভারত সফরকে ঘিরে প্রস্তুতি কার্যক্রম এগোচ্ছে। কিন্তু গতকাল শনিবার পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ এবার ‘সহায়ক পরিবেশ’ সৃষ্টির বিষয়টিতে জোর দিচ্ছে। সংবেদনশীল ইস্যুগুলো সমাধানের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে ভারত খোলামনে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা এবং সহযোগিতা বাড়াতে মনোযোগী। সূত্রগুলো আরও বলছে, প্রাথমিকভাবে ভারতের পক্ষ থেকে ২০ ও ২১ আগস্ট সফর আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহের মাঝামাঝি ভারতের প্রস্তাবিত তারিখের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছেন।
ঢাকার একটি সূত্র জানায়, ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। এরপর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান রয়েছে। এর পর প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে যেতে পারেন। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ভাবছে, সফরটি ২২ ও ২৩ আগস্ট করা যায় কি না।
এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনার পর ঢাকায় দেশটির হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকায় ফিরে আসেন। চার দিনের দিল্লি সফরে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে বিভিন্ন বার্তা তুলে ধরেন। এরপর সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে নরেন্দ্র মোদির কাছ থেকে নিজের কাজের নির্দেশনা এবং বাংলাদেশের জন্য বার্তা নিয়ে ফিরেছেন তিনি। তবে দিল্লি থেকে আসার পর বাংলাদেশ সরকারের কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে তাঁর গতকাল পর্যন্ত সাক্ষাৎ হয়নি।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ এবার ‘সহায়ক পরিবেশ’ সৃষ্টির বিষয়টিতে তাগিদ দিয়ে যাচ্ছে। জোর দিচ্ছে সংবেদনশীল ইস্যুগুলো সমাধানে।
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও জোর দেওয়া হচ্ছে প্রস্তুতির বিষয়গুলোতে। এ মুহূর্তে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত ইস্যুকে উল্লেখ করেছে। আসন্ন সফরে এই বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে সূত্রগুলো আভাস দিয়েছে। পাশাপাশি শেখ হাসিনা ভারতে বসে যেসব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন বা বক্তব্য দিচ্ছেন, সেগুলো যেন বন্ধ করা হয়—এ বিষয়ে ভারতের কাছে জোরালো নিশ্চয়তা চাইবে বাংলাদেশ।
দেশের কূটনৈতিক সূত্রে আরও জানা গেছে, রাজনৈতিক বিষয়ের পাশাপাশি দুই দেশের বহুমাত্রিক সম্পর্কেও নানা দিক রয়েছে এবং তার মধ্যে কিছু বিষয়ে বিশেষ অগ্রাধিকার রয়েছে। অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে জনগণের অবাধ চলাচল সুগম করতে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ট্রানজিট, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা। ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ এ বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে—তাই নবায়ন নিয়ে আলোচনাও বাড়তি গুরুত্ব পাবে।
জানা গেছে, কোনো দেশ প্রধানমন্ত্রীর সফর বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বললেও কর্মকর্তাদের মধ্যে এ নিয়ে প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।