জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় চোর সন্দেহে মো. বাদশা (২৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় মাজেদুল ইসলাম (১৯) নামে আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার প্রেক্ষিতে শুক্রবার (১৫ আগস্ট) ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত বাদশা ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের নলপুকুর গুচ্ছগ্রামের মো. জামালের ছেলে। আহত মাজেদুল ইসলামও একই গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশের হাতে আটককৃতরা হলেন—জয়পুরহাট সদর উপজেলার জামালগঞ্জ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার ও দিনাজপুরের পার্বতীপুরের আজিমুল হক (৩৫), পাম্পের কর্মচারী লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের মো. সাইফুল ইসলাম সজীব (৩১), ক্ষেতলালের মহব্বতপুরের মো. রফিকুল ইসলাম (৩০) এবং জয়পুরহাট সদরের বেলতলার মো. আমজাদ আলী (২০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জামালগঞ্জ ফিলিং স্টেশনে চুরি বা অবৈধ প্রবেশের সন্দেহে বাদশা ও মাজেদুলকে আটক করা হয়। এরপর তাদের একটি পোল্ট্রি খামারে নিয়ে রাতভর মারধর ও নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
নির্যাতনের ফলে দুজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ক্ষেতলালের মহব্বতপুর পদ্মপুকুর এলাকার সড়কের পাশে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাদের ফেলে রাখা হয়। পরদিন ভোরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে। এসময় বাদশাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং মাজেদুলকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহত মাজেদুল ইসলাম বলেন, “আমরা চুরি করেছি—এ কথা বারবার অস্বীকার করলেও আমাদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয় এবং অপরাধ স্বীকার করতে চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। ভোরে জ্ঞান ফেরার পর দেখি, আমার পাশে বাদশার নিথর দেহ পড়ে আছে।”
জয়পুরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আরিফ হোসেন জানান, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সাতজনকে আটক করেছিল। পরে তদন্তে চারজনের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া যাওয়ায় তাদের ক্ষেতলাল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্তে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”
ডিবি সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় বাকি তিনজনকে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।