সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শিশুদের ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আল আমিন (৪৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। নিহত আল আমিনের স্বজনদের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের পরিকল্পিত হামলায় তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের বালিয়াঘাট গ্রামে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নিহত আল আমিনের ছোট ভাই জুয়েল মিয়া জানান, গতকাল শুক্রবার গ্রামের শিশুদের ফুটবল খেলার সময় এক শিশু অন্য এক শিশুকে আঘাত করলে তাকে চড় মারা হয়। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ওই শিশুর বাবা গ্রামের আব্দুল লতিফের কাছে বিচার চাইলে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
জুয়েল অভিযোগ করেন, গতকাল ঘটনাটি মীমাংসার জন্য গেলে কয়েকজন তার ওপর হামলা ও মারধর করেন। এরপর আজ শনিবার দুপুরে তাদের বাড়ির সামনে এসে কয়েকজন গালিগালাজ শুরু করেন। এ সময় আল আমিন প্রতিবাদ করলে ১৫-২০ জন লোক দা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা আল আমিনের মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আল আমিনকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় জুয়েলসহ আরও দুইজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রানা মিয়া (৩০) ও রবিন মিয়া (২৫) রয়েছেন। রবিন মিয়া তোফাজ্জল মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে।
নিহত আল আমিনের পরিবারের অভিযোগ, একই গ্রামের আব্দুর নুর, আব্দুল লতিফ, আব্দুল কুদ্দুস, সুলতান, মহিবুর, মোফাজ্জল, আতাবুর, আব্দুর শহীদ ও জাকিরসহ কয়েকজন এই হামলায় অংশ নিয়েছেন।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "গতকাল দুই শিশুর মধ্যে ঝগড়াঝাঁটি হয়েছিল। এর জের ধরে আজ দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আল আমিন নামের একজন নিহত হয়েছে ও কয়েক জন আহত হয়েছেন। ঘটনার সাথে জড়িতদের আটক করার চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের লাশ উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।"