কুমিল্লা নগরীর মুন হসপিটালে পেট ব্যথার চিকিৎসায় দুই দফা অস্ত্রোপচারের পর মোবারক হোসেন (৫৫) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের ভুল সিদ্ধান্ত এবং চিকিৎসার অবহেলার কারণেই এই প্রাণহানি ঘটেছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

নিহত মোবারক হোসেন কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ধামতি ইউনিয়নের দক্ষিণখার এলাকার মৃত আবদুল মালেকের ছেলে। রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

রোগীর স্বজনদের দেওয়া তথ্যানুসারে, গত ২৫ জুলাই পেট ব্যথা নিয়ে মোবারক হোসেনকে মুন হসপিটালে ভর্তি করা হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ২৮ জুলাই তার পিত্তথলীর অস্ত্রোপচার করা হয়। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পরও ব্যথা না কমলে চিকিৎসকরা জানান, অন্ত্রে প্যাঁচ লেগে আছে। এরপর ১০ আগস্ট দ্বিতীয়বারের মতো তার পেটে অস্ত্রোপচার করা হয় এবং তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে কেবিনে স্থানান্তর করা হলে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিউটি চিকিৎসক পালিয়ে গেছেন বলেও অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।

ধামতি ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ইব্রাহিম খলিল বলেন, "রক্তে ইনফেকশন থাকার কথা জানার পরও চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করেন। ১০ দিনের ব্যবধানে দুইবার অপারেশন করা হয়েছে। সঠিক চিকিৎসার অভাবেই তার মৃত্যু হয়েছে।"

অন্যদিকে, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে অস্ত্রোপচারকারী সার্জন ডা. সোহেল জানান, "প্রথমবার পিত্তথলীতে অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। তখন খাদ্যনালীতে সমস্যা ছিল না। পরে রোগী ব্যথা অনুভব করলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর খাদ্যনালীতে ইনফেকশন ধরা পড়ে, যার কারণে দ্বিতীয় দফায় অপারেশন করা হয়।"

নিহতের ছেলে শিক্ষার্থী সজিব একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিকিৎসায় অবহেলা ছিল কি না তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।

এই বিষয়ে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশীর মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভুল চিকিৎসার কারণে রোগীর মৃত্যু হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"