সিলেটের গোয়াইনঘাটে ভাতিজার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা করায় কলিমুল্লাহ নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অভিযোগ, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত রয়েছেন নিহতের বড় ভাই ও ভাতিজারা। শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার একটি গ্রাম থেকে এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক সপ্তাহ আগে কলিমুল্লাহর মেয়েকে তাঁর বড় ভাই ছয়ফ উল্লাহর এক ছেলে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে একাধিকবার সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। এরই মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অন্যত্র বিয়ে করানোর প্রস্তুতি চলছিল। তবে আজ শনিবার দুপুরে কলিমুল্লাহর স্ত্রী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও বিস্তারিত তথ্যের জন্য তিনজন পুলিশ সদস্য সেখানে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের দাবি, পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ফিরে যাওয়ার সময় কলিমুল্লাহকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

নিহত কলিমুল্লাহ ও ছয়ফ উল্লাহর আরেক ভাই আবদুল আজিজ সাংবাদিকদের বলেন, "পুলিশের সামনেই এ ঘটনা ঘটেছে। চাইলে এ হত্যাকাণ্ড ঠেকাতে পারত পুলিশ।"

একই বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবদুল গফুর জানান, "পুলিশের সামনেই হামলায় খুনের ঘটনা ঘটেছে এমনটি স্থানীয় লোকজনের কাছে তিনিও শোনেছেন।"

তবে গোয়াইনঘাট থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কলিমুল্লাহর সঙ্গে গ্রামে এসেছিলেন পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) এবং দুই সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)। পুলিশ সদস্যরা এই দাবি অস্বীকার করেছেন। এসআই নাইমুল হাসান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "পু‌লিশের উপ‌স্থি‌তিতে খুন করা হয়েছে, এমন দা‌বি সত্য নয়।"

ঘটনা প্রসঙ্গে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওমর ফারুক মোড়ল জানান, নিহত ব্যক্তির স্ত্রী ধর্ষণের ঘটনায় মামলা করার পর পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ফিরে যাচ্ছিলেন। এর ১০ মিনিট পর হত্যার ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেন এবং একজনকে আটক করেন।