প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কিশোরগঞ্জ সফরকে কেন্দ্র করে তড়িঘড়ি করে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের খিলপাড়া এলাকার প্রায় ২০ বছরের পুরোনো ময়লার ভাগাড় বালুচাপা দিয়ে ঢেকে দিচ্ছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। বছরের পর বছর ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ও মানববন্ধনেও যে ভাগাড়ের স্থায়ী সমাধান মেলেনি, প্রধানমন্ত্রীর আগমনী বার্তায় তা দ্রুত পরিষ্কার করা হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে খিলপাড়া এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের পাশে আগে থাকা বড় ময়লার স্তূপটি আর নেই। কিছু ময়লা সরিয়ে তার ওপর বালু ফেলা হয়েছে, যার ফলে জায়গাটি আপাতত পরিচ্ছন্ন দেখাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, আগে দুর্গন্ধের কারণে পথচারীদের নাক চেপে চলতে হতো, তবে এখন পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, "এই ময়লার ভাগাড়টি দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সমস্যার কারণ। পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে বহুবার গিয়েছি, কিন্তু কোনো সমাধান পাইনি। গ্রামের মানুষ এ নিয়ে মানববন্ধনও করেছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী আসবেন—এ খবর পাওয়ার পরই পৌর কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিয়েছে।"

আরেক বাসিন্দা হেলাল উদ্দিন বলেন, "ময়লার স্তূপ প্রায়ই সড়ক পর্যন্ত চলে আসত। এতে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হতো। দুর্গন্ধের কারণে এলাকায় বসবাসও কঠিন হয়ে পড়েছিল।"

তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী চলে যাওয়ার পরও যেন জায়গাটি পরিষ্কার রাখা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, খিলপাড়ার ওই স্থানে কিশোরগঞ্জ শহরের বাজার ও বাসাবাড়ির ময়লার পাশাপাশি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বর্জ্য ফেলা হয়। এছাড়া কটিয়াদী, পাকুন্দিয়া ও হোসেনপুর উপজেলার কিছু এলাকার বর্জ্যও এখানে ফেলা হতো, যা পরিবেশদূষণের সৃষ্টি করত।

কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও ভৈরবগামী বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তিন-চার বছর আগে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি প্রকল্প নেওয়া হলেও লোকবল সংকটসহ নানা কারণে তা এখনও চালু হয়নি। একই মহাসড়কের কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকার ময়লার স্তূপও বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, সফর শেষ হলে পরিস্থিতি আবারও আগের মতো হতে পারে।

তবে পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগ শুধু প্রধানমন্ত্রীর সফর কেন্দ্রিক নয়, বরং সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতার অংশ। কিশোরগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের কিশোরগঞ্জের উপপরিচালক জেবুন নাহার শাম্মী বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে যত্রতত্র ময়লা না ফেলে শহর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য মাইকিং করে জনসাধারণকে সচেতন করা হচ্ছে।"

তিনি আরও বলেন, "এরই ধারাবাহিকতায় কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে ময়লা ফেলার জায়গাটি আপাতত বালু দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। এখানে স্থায়ীভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে সেটি চালু করা সম্ভব হতে পারে।"

প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জ্বল হোসেনের সই করা সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে কিশোরগঞ্জ যাবেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়িঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ উপলক্ষে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বিতরণ করবেন তিনি। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কটিয়াদীর কার্প হ্যাচারি কমপ্লেক্স পরিদর্শন এবং দুপুর ১টার দিকে আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬-এর উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

দুপুর আড়াইটার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে একটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং জেলা ছাত্রদল আয়োজিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সার্কিট হাউসে মধ্যাহ্নভোজ ও বিশ্রাম শেষে বিকেল ৪টার দিকে জেলা শহরের পুরোনো স্টেডিয়াম মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, বিভিন্ন অনুদান এবং মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে সড়কপথে কিশোরগঞ্জ ছেড়ে রাত ৮টার দিকে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।