ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলে আজ শনিবার ৭ দশমিক ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের ফলে অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ভূমিকম্পের পর একের পর এক পরাঘাতও অনুভূত হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা উপকেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকাগুলোতে পৌঁছানোর জন্য তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভোররাতে এই ভূমিকম্পের পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দ্বীপরাষ্ট্রের কিছু এলাকায় ১ মিটারের কম উচ্চতার সুনামি ঢেউ রেকর্ড করা হয়। তবে ভূমিকম্পের প্রায় তিন ঘণ্টা পর সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান সুহারিয়ান্তো এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, শুক্রবার বেলা ৩টা পর্যন্ত ৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৩ জন আহত হয়েছেন। প্রায় ২ হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেছেন।
মাউমেরে শহরের উদ্ধার সংস্থার প্রধান ফাতুর রহমান জানান, সেখানে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ২০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, আহত হয়েছেন ৬ জন এবং ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়ে আছেন ২ জন। মাউমেরে শহরটি ইন্দোনেশিয়ার বিশাল দ্বীপপুঞ্জের পূর্বাঞ্চলীয় ফ্লোরেস দ্বীপের সিক্কা রেজেন্সির প্রধান শহর।
সুহারিয়ান্তো আরও জানান, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকার বেশ কয়েকটি ভবনে এখনো বাসিন্দারা আটকা পড়ে আছেন এবং ভূমিধসের কারণে কয়েকটি সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে।
উপকেন্দ্রের নিকটবর্তী নাগেকেওতে উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারেনি এবং সেখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ফাতুর জানান, সড়কপথে গাড়িতে করে নাগেকেও যাওয়ার চেষ্টা ভূমিধসের কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে, ফলে আরেকটি দল ফেরির মাধ্যমে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।
ইস্ট নুসা টেঙ্গারা প্রদেশের গভর্নর এমানুয়েল মেলকিয়াদেস লাকা লেনা জানান, ঘুমের মধ্যে ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে অন্তত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ইস্ট নুসা টেঙ্গারার তালিবুরা গ্রামের ৫১ বছর বয়সী বাসিন্দা নোনা বলেন, "ভূমিকম্পটি ছিল প্রচণ্ড শক্তিশালী, ধাক্কাটা এতই তীব্র ছিল যে প্রাণ বাঁচাতে আমরা সবাই দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে আসি।"
ইন্দোনেশিয়ার ভূপ্রকৃতিবিদ্যা সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, ভোর ৪টা ৫৮ মিনিটে ১৫ কিলোমিটার গভীরে প্রথম ভূমিকম্পটি আঘাত হানে এবং পরবর্তী সময়ে বেশ কয়েকটি পরাঘাত রেকর্ড করা হয়।
ইন্দোনেশিয়া প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার বা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অগ্নিবলয়ে অবস্থিত, যা একটি ভূকম্পন সক্রিয় অঞ্চল। এই অঞ্চলে প্রচুর সংখ্যায় ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে থাকে।