দীর্ঘ ৩৪ দিন পর তৃতীয়বারের মতো খোলা হয়েছে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্স। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল থেকে মাজার প্রাঙ্গণে সবার উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে দানবাক্সের টাকা গণনার কাজ শুরু হয়। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আগের দুই দফার তুলনায় এবার সংগৃহীত অর্থের পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে।
টাকা গণনার সময় সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, "সর্বশেষ ১১ জুলাই দানবাক্স খোলা হয়েছিল। এরপর প্রায় এক মাসের ব্যবধান হয়েছে। এবারও সবার উপস্থিতিতে প্রকাশ্যেই টাকা গণনা করা হচ্ছে।"
তিনি আরও জানান, স্থানীয় রাজনীতিক, গণ্যমান্য ব্যক্তি, মাজারের মুয়াল্লিম এবং প্রশাসনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই গণনা প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি সাংবাদিকরাও বিষয়টি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছেন। জেলা প্রশাসক বলেন, "ফলে অর্থ গণনা নিয়ে যাতে কোনো ধরনের সন্দেহ বা অবিশ্বাস তৈরি না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।"
নতুন দানবাক্স স্থাপনের পর এর আগে দুই দফায় প্রকাশ্যে টাকা গণনা করা হয়েছিল। প্রথমবার গত ২২ জুন, অর্থাৎ বাক্স স্থাপনের মাত্র চার দিনের মাথায় ১৭ লাখ ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। এরপর ১১ জুলাই দ্বিতীয়বার দানবাক্স খোলা হলে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এই অর্থের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ও অন্যান্য সামগ্রীও পাওয়া গিয়েছিল। দুই দফায় মোট নগদ বাংলাদেশি অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৬৪ লাখ ১০ হাজার ৭০২ টাকা।
দীর্ঘ ৩৪ দিন ধরে দান জমা হওয়ায় এবার আগের চেয়ে বেশি অর্থ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও, গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মোট অংক নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, মাজারের দান ও আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে গত জুনে স্থানীয় প্রশাসন ও মাজার কর্তৃপক্ষের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। গত ১২ জুন তৎকালীন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম মাজার পরিদর্শনে গিয়ে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার নির্দেশে ১৮ জুন মাজারের ঐতিহ্যবাহী ডেগ সিলগালা করে নতুন দানবাক্স বসানো হয়।
নতুন এই দানবাক্স স্থাপন নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। এর মধ্যেই জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম প্রত্যাহার হন, যাকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বদলি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি সামাল দিতে ২৬ জুন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে মাজারের পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ১৩ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটিকে এক মাসের মধ্যে মাজারের পরিচালনা ও অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে ২৬ জুন থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত সময় পার হলেও সেই পরিকল্পনার চূড়ান্ত রূপরেখা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
এই বিষয়ে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কমিটি কাজ করছে এবং নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে। তবে কাজ শেষ হওয়ার আগে কমিটির বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রকাশ করতে চান না তিনি। তার ভাষ্য, দ্রুতই এ বিষয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।